কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ রোজগার বাংলা এআই-সহায়িত সম্পাদকীয় ডেস্ক এই দিনের সব খবর →

আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরে মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের প্রস্তাবে জাতিসংঘের অনুমোদন।

২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ টোগোর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে প্রচলিত মারকেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র প্রজেকশনের ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। পক্ষে ১৬৪ ভোট, ৬ বিরতি, ও যুক্তরাষ্ট্রের ১ বিরুদ্ধ ভোট সহ এটি পাস হয়। এই পরিবর্তন শতাব্দী পুরনো বিকৃতিকে দূর করে, যা আফ্রিকার আকার ছোট দেখায়। নতুন প্রজেকশন আপেক্ষিক স্থলভাগ সঠিকভাবে তুলে ধরে, বিশেষত আফ্রিকা যা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। শিক্ষাঙ্গন ও জনসাধারণে হালনাগাদ আশা করা যাচ্ছে ২০২৬ শেষ থেকে।

এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।

আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরে মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের প্রস্তাবে জাতিসংঘের অনুমোদন।

মূল তথ্য

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৬৪টি পক্ষে ভোট, ৬টি ভোট-বিরতি এবং ১টি বিপক্ষে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।
  • এই প্রস্তাবে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র অভিক্ষেপকে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা ১৬ষ্ঠ শতাব্দীর মারকেটর অভিক্ষেপের তুলনায় মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক ক্ষেত্রফল আরও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে।
  • ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মারকেটর কর্তৃক উন্নীত মারকেটর প্রক্ষেপণটি মূলত নাবিকত্বের জন্য তৈরি, যা দিকনির্দেশনা ঠিক রাখলেও অঞ্চলগুলোর আয়তনে বিকৃতি ঘটায়, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী ভূমি স্ফীত করে দেখায়।
  • আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়, কিন্তু মারকেটর মানচিত্রে এদের প্রায় সমান আকারে দেখানো হয় যা বৈশ্বিক ধারণায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
  • আফ্রিকান ইউনিয়ন এই উদ্যোগকে “জ্ঞানীয় ন্যায়বিচার” হিসেবে সমর্থন করে, বিকৃত মানচিত্রের শিক্ষাগত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেছে।
  • টোগো এই প্রস্তাবের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিদ্যালয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক হালনাগাদের পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রধান বাস্তবায়ন অনুষ্ঠান ২০২৭ সালের শুরুতে লোমেতে, ইউনেস্কো, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও গুগল ম্যাপস-এর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

১৫৬৯ সালে উদ্ভাবিত মারকেটর প্রজেকশনটি নাবিকত্বের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, কারণ এটি কম্পাসের দিক নির্ণয় সরল রেখায় সংরক্ষণ করে। নাবিকত্বে সুবিধাজনক হলেও এটি মেরুজুড়ে অঞ্চলের কাছাকাছি ভূমির আয়তন অত্যধিক বড় করে দেখায়, যার ফলে মহাদেশের আপেক্ষিক সাইজ বিকৃত হয়—বিশেষত গ্রিনল্যান্ডকে অতিরঞ্জিত করে এবং আফ্রিকার আকারকে ছোট করে। ২০১৮ সালে বোয়ান স্যাভরিক, টম প্যাটারসন এবং বার্নহার্ড জেনি দ্বারা উন্নীত ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন একটি সম-ক্ষেত্রফল মানচিত্র অভিক্ষেপ, যা স্থলভাগের আপেক্ষিক আয়তন বজায় রাখে, ফলে এটি শিক্ষামূলক ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্রের জন্য অধিকতর উপযোগী।

আফ্রিকার বিকৃত মানচিত্রে আকার বিশ্বব্যাপী এই মহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই প্রস্তাব একটি প্রতীকী ও শিক্ষামূলক মাইলফলক, যা দেশের ও মহাদেশের প্রকৃত আকার প্রতিফলিত করে ন্যায্য মানচিত্রীয় উপস্থাপনাকে উৎসাহিত করবে।

পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

এই পরিবর্তন ভূগোলকে আধুনিক আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর সঙ্গে সংযুক্ত করে, প্রদর্শন করে কীভাবে মানচিত্রাঙ্কন বিজ্ঞান রাজনীতি ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পরীক্ষায় মানচিত্র অভিক্ষেপ, তাদের বৈশিষ্ট্য, সৃষ্ট বিকৃতি এবং জাতিসংঘের ভূমিকাসহ বিশ্বজনীন সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয় জিজ্ঞাসা হতে পারে। মারকেটর প্রজেকশনকে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনের দ্বারা বিনিময়ের পেছনের উদ্দেশ্য ও প্রভাব বোঝা উচ্চ মাধ্যমিক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখার বিষয়

  • মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটর দ্বারা উদ্ভাবিত এবং প্রধানত নৌচলাচল ও নির্দিষ্ট ডিজিটাল মানচিত্রের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ২০১৮ সালে চালু হয়, যা আকৃতি ও ক্ষেত্রফলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং শিক্ষামূলক ব্যবহার উপযোগী।
  • সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতিসংঘে ১৬৪টি পক্ষে ভোট, ৬টি বিরতি এবং ১টি বিপক্ষে (যুক্তরাষ্ট্র) ভোটের মাধ্যমে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনকে উত্সাহিত করার প্রস্তাব পাস হয়।
  • আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়, যা মারকেটর মানচিত্রে প্রতিফলিত হয় না।
  • টোগো আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছে জ্ঞানীয় ও শিক্ষাগত ভুল ধারণা সংশোধনের জন্য।
  • বাস্তবায়নে পাঠ্যক্রম হালনাগাদ এবং ২০২৭ সালে লোমেতে ইউনেস্কো ও প্রযুক্তি অংশীদারদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা রয়েছে।
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৯৩; প্রস্তাবগুলো বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।

অনুশীলনী MCQ

প্রশ্ন ১

  1. মার্কেটর প্রজেকশন ২০১৮ সালে উদ্ভাবিত হয়েছিল।
  2. ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ১৫৬৯ সালে তৈরি হয়েছিল।
  3. মার্কেটর প্রজেকশন ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটর দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল।
  4. ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন আফ্রিকার প্রকৃত আকারকে বিকৃত করে।

উত্তর: সি

প্রশ্ন ২

  1. জাতিসংঘের প্রস্তাব যেখানে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনকে উৎসাহ দেয় সেটি ২০২৬ সালে গৃহীত হয়েছিল।
  2. প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আফ্রিকান ইউনিয়ন ছিল।
  3. ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল।
  4. যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

উত্তর:

প্রশ্ন ৩

  1. মার্কেটর প্রজেকশন বিশ্বব্যাপী আপেক্ষিক স্থলভাগের আয়তন সঠিকভাবে দেখায়।
  2. ইকুয়াল আর্থ মানচিত্রে আফ্রিকা প্রায় গ্রিনল্যান্ডের সমান আকারের।
  3. মার্কেটর প্রজেকশন আফ্রিকার তুলনায় গ্রিনল্যান্ডকে উল্লেখযোগ্যভাবে বড় করে দেখায়।
  4. ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার চেয়ে বেশি বড় দেখায়।

উত্তর: সি

তথ্যসূত্র