কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ রোজগার বাংলা এআই-সহায়িত সম্পাদকীয় ডেস্ক এই দিনের সব খবর →

সম্মতিপ্রাপ্ত সাতটি রাজ্যে জেলা জজদের অবসরের বয়স ৬২ বছর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, সিকিম, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই সাতটি রাজ্যকে তাদের বিচার বিভাগীয় চাকরির নিয়ম সংশোধন করে জেলা জজদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো, অভিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আরও বেশি দিন ধরে রেখে জেলা আদালতগুলিতে বর্তমানে ৫.১৮ কোটিরও বেশি মামলার বিপুল জট নিরসন করা। জজদের বয়স ৬০ বছর হলে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট কর্তৃক তাদের উপযুক্ততা মূল্যায়নের সাপেক্ষে এই বয়সসীমা ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। যে রাজ্যগুলি এই পরিবর্তনে সম্মত হয়নি, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ১ অক্টোবর, ২০২৬ ধার্য করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের থেকে একটি পৃথক পরিষেবা শ্রেণি গঠন করেন এবং তাদের দেরিতে চাকরিতে যোগদান ও স্বতন্ত্র পরিষেবা ব্যবস্থার কারণে ভিন্ন অবসরের বয়সের যৌক্তিকতা রয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।

সম্মতিপ্রাপ্ত সাতটি রাজ্যে জেলা জজদের অবসরের বয়স ৬২ বছর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।

মূল তথ্য

  • সুপ্রিম কোর্ট সম্মতিপ্রাপ্ত সাতটি রাজ্যকে জেলা জজদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
  • এই সাতটি রাজ্য হলো ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, সিকিম, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ।
  • যখন কোনো জেলা জজ ৬০ বছর এর বয়সে পৌঁছাবেন, তখন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট তার উপযুক্ততা মূল্যায়ন করে অবসরের বয়স ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে।
  • সাতটি রাজ্যই তাদের বিচার বিভাগের চাকরির নিয়মাবলী সংশোধন করে নতুন অবসর বয়স প্রতিফলিত করবে, যা আদর্শভাবে দুই মাসের মধ্যে করা উচিত।
  • বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় (যারা প্রায় ১৮ বছর বয়সে চাকরি শুরু করেন) সাধারণত বেশি বয়সে (প্রায় ২৭-২৮ বছর) চাকরিতে প্রবেশ করেন, যা তাদের চাকরির মেয়াদ এবং অবসরের বয়সে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
  • সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, নিয়োগ বয়স, চাকরির কাঠামো এবং সাংবিধানিক ভূমিকার ভিন্নতার কারণে সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসর গ্রহণের বয়স নিয়ে সমতা দাবি করতে পারবে না।
  • এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য জেলা আদালতগুলিতে জমে থাকা ৫.১৮ কোটি মামলার দুর্বার পেন্ডিং হ্রাস করা।
  • যে রাজ্যগুলি এই পরিবর্তনে সম্মতি দেয়নি, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে; পরবর্তী শুনানি ১ অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

ভারতের সংবিধানের ২৩৩-২৩৭ অনুচ্ছেদ অধস্তন বিচার বিভাগের সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করে, যার মধ্যে জেলা জজদের নিয়োগ ও অধিকার অন্তর্ভুক্ত। জেলা জজদের নিয়োগ রাজ্যপাল হাইকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে করেন, এবং হাইকোর্টগুলি ২৩৫ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলাজনিত নিয়ন্ত্রণ পালন করে। বেশিরভাগ রাজ্যে জেলা জজদের অবসর বয়স ঐতিহ্যগতভাবে ৬০ বছর নির্ধারণ ছিল, যা হাইকোর্টের বিচারপতির ৬২ বছর এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ৬৫ বছরের থেকে কম।

মামলার পেন্ডিং বৃদ্ধি ও বিচারিক কর্মী ঘাটতির কারণে, সুপ্রিম কোর্ট সম্ভবত অভিজ্ঞ জেলা বিচারকদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য অবসর বয়স ৬২ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করে। কিছু রাজ্য এই পরিবর্তনে সম্মতি দিয়েছে, অন্যরা বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের অনন্য সাংবিধানিক মর্যাদা, পরবর্তীতে চাকরি শুরু এবং স্বতন্ত্র চাকরির শর্তাবলী গুরুত্বারোপ করেছে, যা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বেশি অবসর বয়সের যৌক্তিকতা প্রদান করে।

পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

এই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা বিশেষ করে ২৩৩ থেকে ২৩৭ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সাংবিধানিক নিয়মাবলী তুলে ধরে। এটি হাইকোর্ট ও অধস্তন বিচার বিভাগের প্রশাসনিক সম্পর্ক এবং বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব বোঝায়। ভিন্ন ভিন্ন অবসর বয়সের কারণ বোঝা ভারতে বিচার ব্যবস্থার কাঠামো ও কার্যক্রম বোঝার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্রনীতি, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মনে রাখার বিষয়

  • জেলা জজগণ অধস্তন বিচার বিভাগের অংশ, যাদের নিয়ন্ত্রণ সংবিধানের ২৩৩-২৩৭ ধারা দ্বারা নি¤œিত।
  • বিচারপতিদের অবসর বয়স সাতটি রাজ্যে ৬০ থেকে ৬২ বছর বাড়ানো হয়েছে, যা সম্মতি এবং বিধি পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।
  • সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট কর্তৃক উপযুক্ততা মূল্যায়নের মাধ্যমে ৬০ বছর পূর্ণ হলে অবসর বয়স বাড়ানো হবে।
  • বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা একটি স্বতন্ত্র চাকরিজীবী গ্রুপ, যার নিয়োগ বয়স ও চাকরির শর্তাবলী সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের থেকে পৃথক।
  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ৬৫ বছর বয়সে, হাইকোর্টের বিচারপতিরা ৬২ বছর বয়সে অবসর নেন যা স্ট্রাকচারাল পর্যায় নির্দেশ করে।
  • ইতিমধ্যে ৫.১৮ কোটিরও বেশি মামলার পেন্ডিং মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
  • সম্মতি না দেওয়া রাজ্যগুলিকে পুনর্বিবেচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী শুনানি ১ অক্টোবর ২০২৬।

অনুশীলনী MCQ

প্রশ্ন ১

  1. ভারতীয় সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদগুলি জেলা জজদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণ করে?
  2. অনুচ্ছেদ ২৩৩ থেকে ২৩৭
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪ থেকে ১৩০
  4. অনুচ্ছেদ ৩০০ থেকে ৩০৫
  5. অনুচ্ছেদ ১৪১ থেকে ১৪৫

উত্তর: অনুচ্ছেদ ২৩৩ থেকে ২৩৭

প্রশ্ন ২

  1. সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী সম্মতিপ্রাপ্ত সাতটি রাজ্যে জেলা জজদের সংশোধিত অবসর বয়স কত?
  2. ৬০ বছর
  3. ৬১ বছর
  4. ৬২ বছর
  5. ৬৫ বছর

উত্তর: ৬২ বছর

প্রশ্ন ৩

  1. নিচের কোন রাজ্যটি জেলা জজদের অবসর বয়স বাড়ানোর জন্য সম্মত সাতটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  2. ছত্তিশগড়
  3. কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব
  5. মহারাষ্ট্র

উত্তর: পাঞ্জাব

তথ্যসূত্র