কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ

বিশকেকে এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিবেন রাজনাথ সিং

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০২৪ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ যেমন সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং ইউরেশিয়া জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে সিং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তায় ভারতের অঙ্গীকারের উপর জোর দেন। এছাড়াও তিনি এসসিওর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর (যাদের মধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশসমূহ রয়েছে) মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় সহযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিশকেকে এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিবেন রাজনাথ সিং

মূল তথ্য

  • অনুষ্ঠান: এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক
  • তারিখ: ২৭-২৮ এপ্রিল, ২০২৪
  • অবস্থান: বিশকেক, কিরগিজস্তান
  • ভারতীয় প্রতিনিধি: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং
  • আলোচ্য বিষয়সমূহ: আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, ইউরেশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন
  • এসসিও সদস্য: চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মধ্য এশিয়ার দেশসমূহ

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) ২০০১ সালে ইউরেশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হয়। এসসিওর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবেলার মতো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়গুলোতে কৌশলগত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ২০২৪ সালের বৈঠকটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসসিওর সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মতো চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাঝে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যা এসসিও কাঠামোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে।

ভারতের অংশগ্রহণ তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। ভারতের প্রতিনিধিদল সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ বিরোধী যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছিল, যা বেশ কয়েকটি এসসিও দেশের জন্য প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

পরীক্ষার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক ভারতীয় অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা ইউরেশিয়ায় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে এমন আঞ্চলিক বহুপাক্ষিক ফোরামগুলিতে সক্রিয় ভূমিকাকে নির্দেশ করে। এসসিওর গঠন, উদ্দেশ্য এবং ভারতীয় ভূমিকাকে বোঝা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক বিষয়বস্তুর পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলি যেমন সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কূটনীতিক ভারসাম্য প্রদর্শন করে।

মনে রাখার বিষয়

  • ২০২৪ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাজনাথ সিং।
  • এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশসমূহ, যারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ করে।
  • ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হয়।
  • আলোচ্য মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ দমন, চরমপন্থা মোকাবেলা এবং ইউরেশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
  • ভালোভাবে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন