বিশাখাপত্তনমে নির্মল সাগরের অধীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত সামুদ্রিক আবর্জনা শনাক্তকরণ পাইলট প্রকল্প চালু করল ইনকোইস।
হায়দ্রাবাদের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS) সামুদ্রিক আবর্জনার হটস্পটগুলি চিহ্নিত ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য ওশান মডেলিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML) ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনমে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। এই উদ্যোগটি ‘ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর রেমিডিয়েশন অফ মেরিন লিটার’ (নির্মল সাগর)-এর একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো আবর্জনা জমার স্থানগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস দেওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সহায়তা করার মাধ্যমে সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলা করা। এই পাইলট সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিক আবর্জনার উৎস চিহ্নিত করা, সমুদ্রে আবর্জনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং চক্রাকার অর্থনীতির অনুশীলনের সাথে যুক্ত পুনর্ব্যবহারের কৌশল তৈরি করা। ‘স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগর ৫.০’ প্রচার সপ্তাহের সমাপ্তি উপলক্ষে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই কর্মসূচিটি চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব টি. শ্রীনিবাস কুমার এবং বিশাখাপত্তনমের সাংসদ এম. শ্রীভারত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।
মূল তথ্য
- হায়দ্রাবাদের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS) সামুদ্রিক আবর্জনার হটস্পটগুলি শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ওশান মডেলিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML) সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।
- এই উদ্যোগটির পরীক্ষামূলক পর্যায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে শুরু হয়েছিল।
- এই প্রকল্পটি ভারতের প্রথম সমন্বিত সামুদ্রিক আবর্জনা পর্যবেক্ষণ কাঠামো, ‘জাতীয় সামুদ্রিক আবর্জনা প্রতিকার উদ্যোগ’ (নির্মল সাগর)-এর একটি অংশ।
- এই পাইলট প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের উৎস শনাক্ত করা, এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং এর জমা হওয়া স্থানগুলো খুঁজে বের করে নির্দিষ্ট পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।
- এই কর্মসূচিতে চক্রাকার অর্থনীতির নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সামুদ্রিক প্লাস্টিক অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- পরীক্ষামূলক পর্বের উদ্বোধনের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী ‘স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগর ৫.০’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।
- এই অনুষ্ঠানে ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব টি. শ্রীনিবাস কুমার, বিশাখাপত্তনমের সাংসদ এম. শ্রীভারত-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং এতে ভারতীয় নৌবাহিনী, উপকূল রক্ষীবাহিনী, জেলে এবং শিক্ষাবিদ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছিল।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
সামুদ্রিক আবর্জনা, যা প্রধানত প্লাস্টিকের কঠিন বর্জ্য দ্বারা গঠিত, উপকূলীয় ও মহাসাগরীয় জলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করে। হায়দ্রাবাদে সদর দফতর অবস্থিত ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইনকোইস (INCOIS), ঐতিহ্যগতভাবে সমুদ্রের অবস্থার পূর্বাভাস, সুনামি সতর্কীকরণ পরিষেবা এবং সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চলের জন্য পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এই পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতা উপলব্ধি করে, ইনকোইস সামুদ্রিক আবর্জনা পদ্ধতিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য সমুদ্র মডেলিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, AI এবং মেশিন লার্নিং-এর মতো উন্নত প্রযুক্তিগুলিকে একীভূত করেছে।
সামুদ্রিক আবর্জনা প্রতিকারের জাতীয় উদ্যোগ (নির্মল সাগর) হলো একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, যার লক্ষ্য সামুদ্রিক প্লাস্টিক আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি সুসংহত কাঠামো তৈরির মাধ্যমে সামুদ্রিক দূষণ মোকাবেলা করা। এর উল্লেখযোগ্য উপকূলীয় অবস্থানের কারণে, সম্ভাব্য বৃহত্তর প্রয়োগের পূর্বে সামুদ্রিক আবর্জনা পর্যবেক্ষণ কাঠামোটি পরীক্ষা ও পরিমার্জন করার জন্য বিশাখাপত্তনমকে পাইলট সাইট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
প্রতিযোগিতামূলক ও সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রার্থীদের জন্য ভারতের পরিবেশগত শাসন উদ্যোগ, যেমন নির্মল সাগর, সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দূষণ প্রশমনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে INCOIS-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত। স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগরের মতো জাতীয় প্রচারাভিযান এবং সামুদ্রিক দূষণ হ্রাসে ভারতের প্রচেষ্টা সম্পর্কে জ্ঞান পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান, ভূগোল এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী খাতের প্রশ্নগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অধিকন্তু, এটি টেকসই উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য চক্রাকার অর্থনীতি পদ্ধতির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।
মনে রাখার বিষয়
- INCOIS ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয় এবং এর সদর দপ্তর হায়দ্রাবাদে অবস্থিত।
- নির্মল সাগর পাইলট প্রকল্পটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিশাখাপত্তনমে চালু করা হয়েছিল।
- এই উদ্যোগটি সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্ত করতে সমুদ্র মডেলিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, AI এবং মেশিন লার্নিং-এর সমন্বয় ঘটায়।
- বিশাখাপত্তনম পাইলট প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক আবর্জনার উৎস ও জমা হওয়ার অঞ্চল শনাক্ত করা এবং পুনর্ব্যবহার কৌশলকে সমর্থন করা।
- এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী উপকূলীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ‘স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগর ৫.০’ প্রচারণার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
- এই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নৌবাহিনীর সদস্য, জেলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন অংশীদার জড়িত ছিলেন।
- বিশাখাপত্তনমের সাংসদ এম. শ্রীভারত এই উদ্যোগের উদ্বোধনে ভূমিকা পালন করেন এবং সমুদ্রে প্রবেশের আগেই প্লাস্টিক বর্জ্য আটকানোর জন্য লজিস্টিক সহায়তার পক্ষে মত দেন।
অনুশীলনী MCQ
প্রশ্ন ১
- কোন ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নির্মল সাগর সামুদ্রিক আবর্জনা পর্যবেক্ষণ পাইলট প্রকল্পটি চালু করার জন্য দায়ী?
- জাতীয় মহাসাগর প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (NIOT)
- ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS)
- কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB)
- ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)
উত্তর: ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS)
প্রশ্ন ২
- বিশাখাপত্তনমে নির্মল সাগর উদ্যোগের পরীক্ষামূলক পর্যায়টি কবে চালু করা হয়েছিল?
- ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৫ জুন ২০২৬
- ১২ আগস্ট ২০২৫
উত্তর: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশ্ন ৩
- বিশাখাপত্তনমে নির্মল সাগর পাইলট প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে কোন প্রচারাভিযানটি সমাপ্ত হয়েছিল?
- স্বচ্ছ ভারত অভিযান
- স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগর ৫.০
- নীল বিপ্লব
- জাতীয় মহাসাগর মিশন
উত্তর: স্বচ্ছ সাগর সুরক্ষিত সাগর ৫.০