তেলেঙ্গানায় হিমায়তসাগর জলাধারের জল ছাড়ার গুরুত্ব
বর্ষার বৃষ্টিতে জল প্রবাহ বেড়েছে বলে হায়দ্রাবাদ মেট্রোপলিটন ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ড ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে হিমায়তসাগর জলাধার থেকে পানি ছাড়া শুরু করেছে। মুসি নদীর ওপর অবস্থিত এই জলাধারটি ওসমান সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়ে হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের প্রধান পানীয় জল সরবরাহকারী। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে জলাধারের স্তর ছিল ১,৭৬১.৭০ ফুট, যা পূর্ণ স্তর ১,৭৬৩.৫ ফুটের নিচে; ২.২৬ টিএমসি ফুট পানি সঞ্চিত ছিল ২.৫২১ টিএমসি ফুটের ধারণক্ষমতার বিপরীতে। নিচু দিকের নিয়ন্ত্রিত পানির প্রবাহ ছিল ৬৫১ কিউসেক, প্রবাহিত পানি ১৫০ কিউসেক। বর্ষাকালে জল সুরক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা ছিল।
মূল তথ্য
- তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের নিকটবর্তী মুসি নদীর ওপর হিমায়তসাগর জলাধার নির্মিত হয়েছে।
- এই জলাধারটি ওসমান সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়ে হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের জন্য পানীয় জলের প্রধান উৎস।
- জলাধারে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে জলস্তর ছিল ১,৭৬১.৭০ ফুট যা পূর্ণ স্তর ১,৭৬৩.৫ ফুটের একটু নিচে।
- সঞ্চিত জল ছিল ২.২৬ টিএমসি ফুট, যেখানে ধারন ক্ষমতা ২.৫২১ টিএমসি ফুট।
- নিম্ন ধারায় নিয়ন্ত্রিত ভাবে ৬৫১ কিউসেক পানি প্রবাহিত হয়, প্রবাহ ১৫০ কিউসেক।
- হায়দ্রাবাদ মেট্রোপলিটন ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ড জলাধার পরিচালনা করে এবং জলছাড়ার সময় জেলা প্রশাসন, HYDRAA, গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও পুলিশ সতর্কতা রক্ষণ করে।
- এক কিউসেক মানে প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনফুট পানি প্রবাহ, যা সেচ ও জলাধার ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
মুসি নদীর ওপর নির্মিত হিমায়তসাগর জলাধার ওসমান সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়ে সময়ের মধ্যে হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের জন্য পানি সরবরাহ এবং বর্ষাকালে বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এসেছে। ১৯০৮ সালের বিধ্বংসী বন্যার পরে নদী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে শহর রক্ষার জন্য এই জলাধার নির্মাণ করা হয়। গেটগুলি সাবধানে পরিচালনা করা হয়, উদাহরণস্বরূপ ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে ধীরে ধীরে এক ফুট গেট খুলে পানি ছাড়া হয়, যাতে ভাটির এলাকায় বন্যা না হয়। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জল ছাড়ার সময় সতর্ক করা হয়।
পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিকতা
হিমায়তসাগর জলাধার তেলেঙ্গানায় জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, বিশেষত শহুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও হায়দ্রাবাদের যমজ শহরের পানীয় জলের জন্য। পরীক্ষায় শহুরে জল পরিকাঠামো, ১৯০৮ সালের মুসি নদীর বন্যার পরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ কৌশল, জলাধার পরিচালনার বিধি, এবং এই যমজ জলাধারের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। সাম্প্রতিক পানি ছাড়ার তারিখ (২৮ জুন ২০২৬), ধারনক্ষমতার তথ্য ও পরিচালন সংস্থাগুলি সম্পর্কে ধারণা সিভিল সার্ভিস, ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক।
মনে রাখার বিষয়
- হিমায়তসাগর ও ওসমান সাগর দুটো মুসি নদীর ওপর নির্মিত যমজ জলাধার, গুরুত্বপূর্ণ হায়দ্রাবাদের পানীয় জল সরবরাহ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে।
- হিমায়তসাগরের পূর্ণ জলস্তর ১,৭৬৩.৫ ফুট; ধারণক্ষমতা প্রায় ২.৫২১ টিএমসি ফুট।
- ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে ভারী বৃষ্টির কারণে জল ছাড়া শুরু হয়; ২৯ জুন ২০২৬ থেকে গেট নিয়ন্ত্রণ শুরু।
- জল নিঃসরণ একক কিউসেক, যা প্রতি সেকেন্ডে ঘনফুটের মানে।
- জল ছাড়ার সময় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় জরুরি, যাতে নিরাপত্তা ও বন্যা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- মুসি নদীর অববাহিকা ও নিম্নাঞ্চলে পর্যাপ্ত নজরদারি প্রয়োজন।