কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ রোজগার বাংলা সম্পাদকীয় ডেস্ক এই দিনের সব খবর →

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে।

২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে বাদ দেয়, যা ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর ছিল। একই সময়ে আল-নুসরা ফ্রন্টকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকা থেকে অপসারণ করা হয়। এই পদক্ষেপ সিরিয়ার রাজনৈতিক বিশাল পরিবর্তনের পর নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতা থেকে অব্যাহতি এবং আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতিষ্ঠা। এসব পরিবর্তনের ফলে সিরিয়ার ওপর বিভিন্ন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহায়তার ফিরতি পথ সুগম করবে।

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে।

মূল তথ্য

  • ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যেখানে দেশটি ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ছিল।
  • আল-নুসরা ফ্রন্ট (হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস নামেও পরিচিত) একই সময়ে ওএফএসি কর্তৃক মার্কিন বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের তালিকা থেকে অপসারণ নিয়ে সিরিয়া জেনারেল লাইসেন্স ২৫ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
  • এই পরিবর্তনগুলো আসে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এইচটিএস নেতা আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের দ্বারা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত প্রদান করেন।
  • ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে অবহিত করার পরে ৪৫ দিনের কংগ্রেস পর্যালোচনা শেষে এই তালিকা থেকে অপসারণ করা হয়।
  • সিরিয়া বাদ দেওয়ার পর কিউবা, ইরান এবং উত্তর কোরিয়া তালিকায় অব্যাহত রয়েছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

মার্কিন ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা হলো একটি বৈদেশিক নীতি হাতিয়ার, যা বারবার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সহায়তা করা দেশগুলোকে চিহ্নিত করে। তালিকাভুক্তির ফলে বিদেশি সহায়তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি এবং নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনে সীমাবন্ধান আরোপ করা হয়। ১৯৭৯ সালে স্নায়ুযুদ্ধ ও প্রক্সি জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থনের কারণে সিরিয়া এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০২৪ সালে সিরিয়ায় রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটে, যেখানে আসাদ সরকার পতিত হয় এবং আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর মার্কিন প্রশাসন সিরিয়া নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে, যা সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তর, পুনর্গঠন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রতি সমর্থন নির্দেশ করে।

ওএফএসি এর বিশেষভাবে মনোনীত জাতীয় (এসডিএন) তালিকা থেকে এইচটিএস অপসারণ এবং সাধারণ লাইসেন্স ২৫ প্রত্যাহার মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নীতিকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য আনে।

পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাইলফলক, যা সিরিয়া ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন নির্দেশ করে। এটি নিষেধাজ্ঞা, কূটনীতি, সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা ও শাসন পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান ধারণাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে, যা রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়ের পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৭৯ (তালিকা গ্রহণ), ডিসেম্বর ২০২৪ (আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি), ৮ জুলাই ২০২৬ (কংগ্রেস অবহিতকরণ), ২৪ আগস্ট ২০২৬ (তালিকা থেকে অপসারণ)
  • ব্যক্তিত্ব: আহমেদ আল-শারা (সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি, ২০২৪ থেকেই), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), মার্কো রুবিও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
  • প্রতিষ্ঠান: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ওএফএসি, মার্কিন কংগ্রেস

মনে রাখার বিষয়

  • সিরিয়াকে প্রায় ৪৭ বছর ধরে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, যেটি ২০২৬ সালে বাতিল হয়।
  • মার্কিন আইন অনুসারে তালিকা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি অবহিতকরণ, কংগ্রেস পর্যালোচনা ও নিষেধাজ্ঞার বিধি পালন অন্তর্ভুক্ত।
  • এসডিএন তালিকা থেকে এইচটিএস অপসারণ মার্কিন সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞায়নের ইঙ্গিত দেয়।
  • এই তালিকায় থাকা দেশগুলো মার্কিন বিদেশি সহায়তা, প্রতিরক্ষা রপ্তানি ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আয়ত্তাধীন থাকে।
  • ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কিউবা, ইরান ও উত্তর কোরিয়া তালিকায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন