জাতীয় ভোজ্য তেল মিশন – পাম তেল (এনএমইও-ওপি): ভারতের ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধি
ভারত সরকার ২০২১ সালে ১১,০৪০ কোটি টাকার বাজেটসহ 'জাতীয় ভোজ্য তেল – পাম তেল মিশন' (NMEO-OP) চালু করে। এই মিশনের লক্ষ্য পাম তেল চাষ বাড়িয়ে দেশের অপরিশোধিত পাম তেল (CPO) উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৬.২০ লক্ষ হেক্টর জমিতে পাম তেল চাষ হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রার কাছে। অপরিশোধিত পাম তেল উৎপাদন ২০১৪-১৫ সালের ১.৯১ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ৩.৮০ লক্ষ টনে উন্নীত হয়েছে; ২০২৫-২৬ সালে ১১.২০ লক্ষ টন এবং ২০২৯-৩০ সালে ২৮ লক্ষ টনের লক্ষ্য নির্ধারিত আছে। ৮০% উৎপাদন আসে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। ভারত বর্তমানে ভোজ্য তেলের প্রায় ৬০% আমদানি করে, যার ৫৯% পাম তেল যা প্রধানত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসে। মিশনটি উচ্চ জল ব্যবহার, তাজা ফলের পচনশীলতা ও মাটির উর্বরতার মতো সমস্যার মোকাবেলা করে ভোজ্য তেলে আত্মনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
মূল তথ্য
- জাতীয় ভোজ্য তেল মিশন – পাম তেল (NMEO-OP) ২০২১ সালে ১১,০৪০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ একটি কেন্দ্রীয়ভাবে স্পন্সরকৃত প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়।
- এর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৬.৫ লক্ষ হেক্টর জমিকে পাম তেল চাষের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১০ লক্ষ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে ৬.২০ লক্ষ হেক্টর জমিতে পাম তেল চাষ করা হয়েছিল।
- অপরিশোধিত পাম তেল (CPO) উৎপাদন ২০১৪-১৫ সালে ১.৯১ লক্ষ টন থেকে বাড়িয়ে ২০২৪-২৫ সালে ৩.৮০ লক্ষ টনে উন্নীত হয়েছে, এবং ২০২৫-২৬ সালে ১১.২০ লক্ষ টন ও ২০২৯-৩০ সালে ২৮ লক্ষ টনে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ভারত তার অভ্যন্তরীণ ভোজ্য তেল চাহিদার মাত্র প্রায় ৪৪% উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করে, এবং প্রায় ৬০% আমদানি করে, যার মধ্যে পাম তেলের অংশ ৫৯%, যা প্রধানত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।
- অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা প্রধান পাম তেল উৎপাদনকারী রাজ্য; অন্ধ্রপ্রদেশ একাই ভারতের প্রায় ৮০% অপরিশোধিত পাম তেল উৎপাদন করে।
- তেল পাম একটি উষ্ণমণ্ডলীয় বহুবর্ষজীবী ফসল যার ফলনকাল ৪-৫ বছর, এবং এতে প্রচুর পরিমাণ জল ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
- পাম তেলের তাজা ফলের গুচ্ছ সংগ্রহের ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা আবশ্যক, যাতে গুণগত মান নিশ্চিত হয়।
- সরকার কৃষকদের সহায়তার জন্য মাসিক ফর্মুলা মূল্য এবং বার্ষিক নির্দিষ্ট কার্যকারিতা মূল্যসহ দ্বৈত মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
- পরিবেশগত ও কৃষিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে উচ্চ জল ব্যবহার (প্রান্তিক ধান চাষের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি), মাটির উর্বরতা হ্রাস, ক্ষুদ্র কৃষকদের জমির সীমিত প্রবেশাধিকার এবং কৃষি-রাসায়নিক ব্যবহারের বৃদ্ধি।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ভারতের ভোজ্য তেল খাত খাদ্য নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তম তৈলবীজ উৎপাদক দেশ হওয়া সত্ত্বেও, ২০২৩-২৪ সালে ভারত তার ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় ৫৬% আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ন্যাশনাল মিশন অন এডিবল অয়েলস' (NMEO) চালু করা হয়, যার দুটি অংশ রয়েছে: ২০২১ সাল থেকে 'এনএমইও – অয়েল পাম' অঞ্চল সম্প্রসারণ ও CPO উৎপাদন বৃদ্ধির উপর কেন্দ্রীভূত, এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়া 'এনএমইও – অয়েলসিডস', যা প্রচলিত তৈলবীজের উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করে।
পাম তেলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হচ্ছে উচ্চ তেল উৎপাদন ক্ষমতা (প্রচলিত তৈলবীজের তুলনায় পাঁচগুণ)। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার করে, যা মোট উৎপাদনের ৯৮%। তবে, এর চাষে বেশি জল ও পুষ্টি প্রয়োজন ও ফলনের পর যত্নশীল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রয়োজন, যা স্থায়িত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
এনএমইও-ওপি ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ। এটি কৃষি নীতি, সরকারি প্রকল্প ও খাদ্য নিরাপত্তা অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেমন UPSC সিভিল সার্ভিসে প্রায়শই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, রাজ্যভিত্তিক অবদান ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জ্ঞান প্রিলিমস ও মেইনস উভয় পরীক্ষায় সাহায্য করে।
মনে রাখার বিষয়
- এনএমইও-ওপি ২০২১ সালে ১১,০৪০ কোটি টাকার ব্যয়ে চালু হয়।
- ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৬.৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে পাম তেল চাষের লক্ষ্যমাত্রা, যা ২০২৫ সালের নভেম্বর নাগাদ ৬.২০ লক্ষ হেক্টরে পৌঁছেছে।
- সিপিও উৎপাদন ১.৯১ লক্ষ টন (২০১৪-১৫) থেকে ৩.৮০ লক্ষ টনে (২০২৪-২৫) বেড়েছে; লক্ষ্যমাত্রা ১১.২০ লক্ষ টন (২০২৫-২৬) এবং ২৮ লক্ষ টন (২০২৯-৩০)।
- ভারত তার ভোজ্য তেলের প্রায় ৬০% আমদানি করে, যার মধ্যে ৫৯% পাম তেল, যা প্রধানত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসে।
- অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের প্রায় ৮০% অপরিশোধিত পাম তেল উৎপাদন করে।
- তেল পামের গজম্য সময় ৪-৫ বছর, উচ্চ জল ও পুষ্টি চাহিদা, এবং তাজা ফল ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রয়োজন।
- সরকার পাম তেল চাষিদের জন্য দ্বৈত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছে।
- চ্যালেঞ্জসমূহ: উচ্চ জল চাহিদা, মাটির উর্বরতা হ্রাস, ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি প্রাপ্যতায় সমস্যা, কৃষি-রাসায়নিকের বর্ধিত ব্যবহার।
- ২০ মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাস্থ্যগত ও আমদানি নির্ভরতার কারণে নাগরিকদের ভোজ্য তেলের ব্যবহার ১০% কমানোর আহ্বান জানান।