মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল (বুলেট ট্রেন) প্রকল্পের নকশা উন্মোচন করা হলো
২০২৬ সালের ১৮ মে, নয়াদিল্লিতে রেল মন্ত্রকের অধীনে মুম্বাই-আহমেদাবাদ High-Speed Rail প্রকল্পের জন্য দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের নকশা উন্মোচিত হয়। প্রকল্পটি ৫০৮ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দাদরা ও নগর হাভেলি ইউনিয়ন টেরিটোরির ১২টি স্টেশনকে সংযুক্ত করে। ট্রেন নকশায় জাপানি Shinkansen প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি সুষ্ঠু, বায়ুগতিবিদ্যাসম্মত গঠন দেয়া হয়েছে। Integral Coach Factory (চেন্নাই) ও BEML Limited (বেঙ্গালুরু) ‘Make in India’ উদ্যোগের আওতায় ট্রেন সেট তৈরি করছে, যার নকশা গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিমি। আহমেদাবাদ-ভাপি অংশ (~১০০ কিমি) ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে চালু করা হবে এবং পুরো করিডোর ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবার প্রত্যাশা রয়েছে। মোট ব্যয় প্রায় ₹১.১ লক্ষ কোটি (~US$১৫ বিলিয়ন)। প্রকল্পে মুম্বাইয়ে ২১ কিলোমিটার টানেল রয়েছে, যার মধ্যে থানে ক্রিকের নিচে ৭ কিলোমিটার সমুদ্রগর্ভস্থ অংশ রয়েছে, যা দেশের প্রথম।
মূল তথ্য
- প্রকল্পের দৈর্ঘ্য: ৫০৮ কিলোমিটার
- স্টেশনের সংখ্যা: ১২ (মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ)
- নকশা অনুযায়ী পরিচালন গতি: ২৮০ কিমি/ঘণ্টা
- প্রযুক্তি: জাপানি Shinkansen
- উৎপাদন: ‘Make in India’ কর্মসূচির অধীনে Integral Coach Factory (চেন্নাই) এবং BEML Limited (বেঙ্গালুরু) দ্বারা
- প্রকল্প ব্যয়: প্রায় ₹১.১ লক্ষ কোটি (~US$১৫ বিলিয়ন)
- প্রথম কার্যকরী অংশ: আহমেদাবাদ থেকে ভাপি (~১০০ কিমি), আগস্ট ২০২৭-এর মধ্যে
- ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করিডোর চালু হবে
- মুম্বাইয়ে ২১ কিমি টানেল, যার মধ্যে ৭ কিমি সমুদ্রগর্ভস্থ টানেল (ভারতের প্রথম সমুদ্রগর্ভস্থ রেল টানেল)
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
মুম্বাই-আহমেদাবাদ High-Speed Rail প্রকল্প, ভারতের প্রথম উচ্চগতির রেল করিডোর, মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে আন্তঃনগর সংযোগ ও অর্থনৈতিক একীকরণে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে। জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এটি বিশ্বখ্যাত Shinkansen প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা নিরাপত্তা ও দক্ষতার জন্য প্রসিদ্ধ। এই প্রকল্প ‘Make in India’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের রেল পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পরীক্ষার জন্য এর গুরুত্ব
মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। প্রকল্পের দৈর্ঘ্য, স্টেশন সংখ্যা, প্রযুক্তি, সময়সীমা ও অর্থায়ন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত সাম্প্রতিক ঘটনার মুখ্য অংশ ও সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ভারতীয় পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সম্পর্কিত পরীক্ষার জন্য প্রকল্পের পরিধি, তাৎপর্য এবং প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে ধারনা থাকা জরুরি।
মনে রাখার বিষয়
- পথটি মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দাদরা ও নগর হাভেলি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়।
- ১২টি প্রধান স্টেশন: Bandra Kurla Complex (Mumbai), Thane, Virar, Boisar, Vapi, Bilimora, Surat, Bharuch, Vadodara, Anand, Ahmedabad, Sabarmati
- জাপানি Shinkansen প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও দ্রুতগতি নিশ্চিত করে।
- ‘Make in India’ উদ্যোগের অধীনে নির্মিত ট্রেন সেটগুলি।
- নকশা গতিবেগ ২৮০ কিমি/ঘন্টা, যা কার্যকরী গতি হিসেবে লক্ষ্য।
- থানে Creek এর নিচে থাকা সমুদ্রগর্ভস্থ টানেল ভারতের প্রথম।
- প্রায় ₹১.১ লক্ষ কোটি ব্যয়, যা মূলত স্বল্প সুদের জাপানি ঋণ থেকে অর্থায়িত।
- পর্বক্রমিক চালু: আগস্ট ২০২৭ এ আহমেদাবাদ-ভাপি অংশ; ডিসেম্বর ২০২৯ এ পুরো করিডোর।