কেরালা ভিশন ২০৩১: ভারতের সবচেয়ে নারীবান্ধব রাজ্য হয়ে ওঠার একটি রূপরেখা
কেরালার সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (UDF) সরকার ‘ভিশন ২০৩১’ নামে একটি ব্যাপক নীতি রূপরেখা ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য কেরালাকে ভারতের সবচেয়ে নারীবান্ধব রাজ্যে পরিণত করা। এটি নারীর নিরাপত্তা, গণপরিবহন, গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক বাজেট এবং নারী-অন্তর্ভুক্ত পর্যটনের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেয়। প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইনের আদলে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের দ্রুত বিচার, মহিলা থানার সংখ্যা বৃদ্ধি, জরুরি অবস্থার জন্য ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট অ্যাপ, পিঙ্ক নাইট বাস এবং ১৫ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্য বাসে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ। ভিশন নিরাপদ ভ্রমণ সুবিধা প্রচার করে এবং লিঙ্গভিত্তিক বাজেটিং-কে ৫,৫৮৬.৯৯ কোটি টাকার বরাদ্দসহ সামগ্রিক ২৫,৪০১ কোটি টাকার পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করে।
মূল তথ্য
- সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (UDF) সরকারের উদ্যোগে কেরালার জন্য 'ভিশন ২০৩১' নীতি রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো কেরালাকে ভারতের সবচেয়ে নারীবান্ধব রাজ্যে পরিণত করা।
- এই রূপকল্পে নারীদের নিরাপত্তা, গণপরিবহনসুবিধা, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও যৌতুক হয়রানি প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক বাজেটিং এবং লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্ত পর্যটন সম্প্রসারিত করার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত আছে।
- অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইনের অনুপ্রেরণায় নারী নির্যাতনের নির্দিষ্ট অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তাব রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইন (২০১৯) অনুসারে, বিশেষ আদালতগুলো ২১ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে, যা ধর্ষণসহ যৌন অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার দ্রুততর করে।
- নারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত মহিলা থানার স্থাপন এবং মহিলা পুলিশ সদস্যদের স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
- জরুরি অবস্থায় নারীরা দ্রুত সহায়তা পান, সেজন্য ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট অ্যাপ চালু করা হবে।
- রাত্রিকালীন সময়ে মূল রুটগুলোতে মহিলাদের জন্য বিশেষ গোলাপী বাস চালানো হবে যাতে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা যায়।
- প্রিয়দর্শিনী প্রকল্পের আওতায় ১৫ জুন ২০২৬ থেকে কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের সাধারণ বাসে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ থাকবে।
- আভালকোপ্পাম উদ্যোগ গার্হস্থ্য সহিংসতা ও যৌতুক হয়রানি প্রতিরোধ করতে কাজ করবে।
- নারী ভ্রমণকারীদের জন্য প্রধান শহরগুলোতে শৌচাগার, খাবারের দোকান ও হোস্টেল গড়ে তোলা হবে যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিতে সাহায্য করে।
- কেরালা ২০২২ সালে একটি লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্ত পর্যটন নীতি চালু করেছে, যা নারী-নেতৃত্বাধীন ট্যুর ইউনিট, হোমস্টে এবং স্যুভেনিয়ার শপের মাধ্যমে ১৭,৬০০-এরও বেশি নারীকে যুক্ত করেছে।
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রাজ্যের জেন্ডার বাজেটে ৫,৫৮৬.৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা মোট ২৫,৪০১ কোটি টাকার পরিকল্পনা খরচের অংশ এবং এটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতির প্রতি বড় ধরনের আর্থিক অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
কেরালার ভিশন ২০৩১ সফল নারী নিরাপত্তা মডেল যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইন, ২০১৯-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা নির্দিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত সাত দিনের মধ্যে এবং বিচার ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে (মোট ২১ দিন) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এই আইনি কাঠামো দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রের দৃষ্টি শুধুমাত্র বিচার প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নারীদের চলাচল, জনপরিসরে নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ পর্যন্ত বিস্তৃত, যার মধ্যে নারী নেতৃত্বাধীন পর্যটন শক্তিশালীকরণ এবং নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। লিঙ্গভিত্তিক বাজেটিং জাতীয় প্রচেষ্টার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাঠামোগত লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবেলায় নারীকেন্দ্রিক কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করে।
কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন পরিবহন সংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করে। কেরালা স্টেট প্ল্যানিং বোর্ড এবং কেরালা স্টেট উইমেন্স ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব/প্রাসঙ্গিকতা
কেরালা ভিশন ২০৩১ একটি ব্যাপক লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতি পদ্ধতি উপস্থাপন করে, যা নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়ন গড়ে তোলার জন্য আইনি, সামাজিক, অবকাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর সমন্বয় ঘটায়। এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাম্প্রতিক ঘটনা, শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক ন্যায়ের বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ, নারীর অধিকারের বিষয়, লিঙ্গভিত্তিক বাজেটিং এবং উদ্ভাবনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে।
অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইন এবং এর অন্যান্য রাজ্যে আইনগত সংস্কারের প্রভাব সম্পর্কে জ্ঞান নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবেলায় আইনি কাঠামো বুঝতে সহায়তা করে। প্রযুক্তির ব্যবহার (ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট অ্যাপ), বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা (গোলাপী বাস) এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন (লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্ত পর্যটন) বহুগুণে সেক্টরীয় কৌশল তুলে ধরে।
মনে রাখার বিষয়গুলো
- কেরালার ইউডিএফ সরকার ভারতের সবচেয়ে নারীবান্ধব রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০৩১ প্রস্তাব করেছে।
- অন্ধ্রপ্রদেশের দিশা আইনের অনুপ্রেরণায় নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে ২১ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার প্রস্তাবিত হয়েছে।
- নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য আরও মহিলা থানা ও মহিলা স্টেশন হাউস অফিসার নিয়োগ করা হবে।
- মহিলাদের জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট অ্যাপ চালু হবে।
- মহিলাদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য রাতে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে গোলাপী রঙের বাস চলাচল করবে।
- প্রিয়দর্শিনী প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ জুন ২০২৬ থেকে মহিলা এবং তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন।
- আভালকোপ্পাম উদ্যোগ গার্হস্থ্য সহিংসতা ও যৌতুক হয়রানি প্রতিরোধ করবে।
- ২০২২ সালে চালু হওয়া লিঙ্গ-অন্তর্ভুক্ত পর্যটন নীতির আওতায় কেরালায় ১৭,৬০০-এর অধিক নারী যুক্ত হয়েছে।
- কেরালার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট ৫,৫৮৬.৯৯ কোটি টাকা, যা মোট ২৫,৪০১ কোটি টাকার পরিকল্পনার অংশ।