২০২৪-২৫ সালে ঝাড়খণ্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নেমেছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঝাড়খণ্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে একটি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে, যা ২০১৪-১৫ সালের ৬.৪১% থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। UDISE+ ২০২৪-২৫ ও NITI Aayog-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একই সময়ে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ৭.৪২% থেকে ১.৭% এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩.২% থেকে ৩.৫% এ কমেছে। এই অগ্রগতি ঝাড়খণ্ডকে জাতীয়ভাবে ঝরে পড়া কমানোর শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। তবে শিক্ষকের বড় শূন্যপদ ও অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও বিদ্যমান। রাজ্যব্যাপী জরিপের মাধ্যমে স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের চাহিদা চিহ্নিত করে ঝরে পড়া হ্রাসের প্রচেষ্টা চলছে।
মূল তথ্য
- UDISE+ ২০২৪-২৫ এবং NITI Aayog-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ঝাড়খণ্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ছিল ০%, যা ২০১৪-১৫ সালের ৬.৪১% থেকে কম।
- একই সময়ে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ৭.৪২% থেকে কমে ১.৭% হয়েছে।
- ২০১৪-১৫ সালে মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ছিল ২৩.২%, যা ২০২৪-২৫ সালে কমে ৩.৫% হয়েছে।
- ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে সুক্ষ্ম তালিকাভুক্তির হার (GER) ১০৯.২% থেকে ৯২.৫% এ নেমেছে, একই সময়ে মাধ্যমিক GER বেড়ে ৬৬.০৫% থেকে ৭২% এ দাঁড়িয়েছে।
- ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডে প্রায় ৮৬,০০০ শিশুরা এখনও স্কুলের বাইরে রয়েছে।
- ২০২৫-২৬ সালে শিক্ষক পদে শূন্যতা ছিল ৯৯,৫৬৫টি, যার মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ৮০,৩৪১টি শূন্য। ৯,১৭২টি বিদ্যালয় একক শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- ২০২৪-২৫ সালে মাধ্যমিক স্তর থেকে ঝরে পড়ার হার কমানোর ক্ষেত্রেঝাড়খণ্ড জাতীয়ভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ঝরে পড়ার হার বলতে বোঝায় এমন ছাত্রছাত্রীদের অনুপাত যারা কোনো স্তর সম্পূর্ণ করার পূর্বেই ছেড়ে দেয়। ভারতে প্রাথমিক শিক্ষা হল প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি, উচ্চ প্রাথমিক হল ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক হল নবম ও দশম শ্রেণি। UDISE+ হলো শিক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় ডেটাবেস, যাতে ভর্তি ও ঝরে পড়ার হার যেমন তথ্য অন্তর্ভুক্ত। ঝাড়খণ্ড এই হার দ্রুত কমিয়েছে, যা এক দশকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে। যদিও ২০২৪-২৫ সালে ছেলে-মেয়েদের উভয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া শূন্য রিপোর্ট করা হয়েছে, কিছু তথ্য বিশেষজ্ঞ এই অস্বাভাবিক শূন্যতার পরিসংখ্যানগত অবাস্তবতা এবং পদ্ধতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন।
মোট তালিকাভুক্তি অনুপাত (GER) বয়স নির্বিশেষে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা গণ্য করে, যা শিক্ষায় অংশগ্রহণ পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। প্রাথমিক GER কমে যাওয়া এবং মাধ্যমিক GER বাড়ার ফলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও উচ্চতর স্তরে শিক্ষার্থী বজায় রাখার উন্নতি বোঝায়।
শিক্ষক ঘাটতি — উচ্চ শূন্য পদ ও প্রতিকূল ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত দ্বারা প্রমাণিত — এবং একক শিক্ষক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনও বড় সমস্যা। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনায় নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত একটি গৃহস্থালি জরিপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা স্কুল বাইরে থাকা শিশুদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে এবং সার্বজনীন শিক্ষার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিকতা
এই সাফল্য ঝাড়খণ্ডের শিক্ষা সংস্কারের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে এবং এটি ভারতের শিক্ষানীতি, রাজ্যের কর্মক্ষমতা এবং সরকারী উদ্যোগ যেমন সার্ব শিক্ষা অভিযান ও জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেস স্টাডি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান, তারিখ এবং নীতিগত পদক্ষেপগুলি শিক্ষাগত তথ্য বিশ্লেষণ, নীতি মূল্যায়ন ও রাজ্য তুলনা সংক্রান্ত প্রশ্নাবলীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
মনে রাখার বিষয়
- ২০২৪-২৫ সালে ঝাড়খণ্ডে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার শূন্য হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে তথ্যের সীমাবদ্ধতাসহ বিবেচনা করা উচিত।
- ঝরে পড়ার হার স্তর অনুযায়ী: প্রাথমিক (I-V), উচ্চ প্রাথমিক (VI-VIII), মাধ্যমিক (IX-X)।
- UDISE+ হল বিদ্যালয় ভিত্তিক ভর্তি ও ঝরে পড়ার তথ্যের বিশ্বস্ত উৎস।
- অগ্রগতির সত্ত্বেও ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক শূন্যপদ ও একক শিক্ষক বিদ্যালয় সমস্যা রয়ে গেছে।
- ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত GER-এর প্রবণতা প্রাথমিক স্তরে হ্রাস এবং মাধ্যমিকে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
- শিক্ষা আন্তর্জাতিকীকরণ ও ঝরে পড়া কমানোর জন্য বহু স্তরের সরকারি কর্মসূচি ও জরিপ চলমান।
তথ্যসূত্র
- India Achieves Zero Primary Dropout Rate in Jharkhand
- Education transformation in Jharkhand: Jharkhand achieves zero primary dropout rate; Secondary dropout rates decline impressively but teaching vacancies remain high
- Jharkhand reports record school dropout rate decline in 2024–25, but activists question data accuracy