কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ রোজগার বাংলা এআই-সহায়িত সম্পাদকীয় ডেস্ক এই দিনের সব খবর →

মার্কিন-নির্মিত জ্যাভলিন ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত।

২০২৬ সালের ২৮শে আগস্ট, ভারত ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্টেন্স (প্রস্তাব ও স্বীকৃতিপত্র) স্বাক্ষর করেছে। এই ক্রয়ের ফলে একটি অত্যাধুনিক, বহনযোগ্য এবং একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান-বিধ্বংসী সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। দেশীয় উৎপাদনের জন্য ভারত, জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার (RTX ও Lockheed Martin) এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই চুক্তি ভারত-মার্কিন কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তি সহযোগিতার লক্ষ্যে কাজ করবে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।

মার্কিন-নির্মিত জ্যাভলিন ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত।

মূল তথ্য

  • ২০২৬ সালের ২৮ শে আগস্ট, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাব ও স্বীকৃতিপত্র (LOA) স্বাক্ষর করেছে।
  • এই ক্রয় ফরেন মিলিটারি সেলস (FMS) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যা সরকার থেকে সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পদ্ধতি।
  • জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ম্যান-পোর্টেবল, ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং মাঝারি দূরত্বে সাঁজোয়া যান ও সুরক্ষিত স্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর।
  • প্রাথমিক চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১০০টি জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র এবং লঞ্চ ইউনিট অন্তর্ভুক্ত; কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃহত্তর প্যাকেজে এক্সক্যালিবার আর্টিলারি শেলসহ $৯৩ মিলিয়ন পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামও থাকতে পারে।
  • ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL) এর সঙ্গে জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার (Raytheon Technologies এবং Lockheed Martin এর যৌথ উদ্যোগ)-এর একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) বিদ্যমান, যা যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
  • চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ার পথ সুগম হয়েছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের উত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ২০০৯ সাল থেকে আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে উদ্যোগী ছিল। Raytheon এবং Lockheed Martin যৌথভাবে তৈরি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন তৃতীয় প্রজন্মের, ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, যা এর নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন ভূমিতে সহজ ব্যবহারের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

ফরেন মিলিটারি সেলস প্রক্রিয়া মার্কিন সরকারের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সামগ্রী, সেবা এবং প্রশিক্ষণ হস্তান্তরের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি, যা দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণসহ সামগ্রী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।

এর আগে ২০২৫ সালের শেষভাগে, মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) কংগ্রেসকে ভারতের কাছে জ্যাভলিন সিস্টেম বিক্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেছিল। উভয় দেশই এটি স্বাগত জানায় এবং এটি তাদের গুরত্বপূর্ণ কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের দিক নির্দেশ করে। চুক্তিটি 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের আওতায় যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আলোচনার মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা চাহিদার মধ্যবর্তী কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

এই চুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রয়, ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সামরিক আধুনিকীকরণ বিষয়ে গভীর জ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ফরেন মিলিটারি সেলস প্রক্রিয়া এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকে। জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য, ভারতের ক্রয় প্রক্রিয়া ও যৌথ উৎপাদন উদ্যোগগুলি বোঝা পরীক্ষার জন্য অপরিহার্য।

মনে রাখার বিষয়

  • এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন একটি ব্যক্তি বহনযোগ্য, একবার নির্দেশ দিলে নিজে লক্ষ্য অনুসরণ করে নিক্ষেপযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র যা আধুনিক সাঁজোয়া যান বিরুদ্ধে কার্যকর।
  • ভারতের ক্রয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি সেলস পদ্ধতির মাধ্যমে হয়েছে, যা সরকার-সরকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নির্দেশ দেয়।
  • ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারের সাথে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নিয়ে আলোচনায় যুক্ত রয়েছে।
  • এ চুক্তি ভারত-আমেরিকা প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ও স্ট্র্যাটেজিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করলো।
  • ২০২৬ সালের ২৮শে আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃত।
  • মার্কিন দূত সার্জিও গোর এই ক্রয়কে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ও যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অনুশীলনী MCQ

প্রশ্ন ১

  1. এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন একটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
  2. এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন একটি ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল।
  3. জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি রাশিয়ার সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
  4. জ্যাভলিন একটি দীর্ঘ দূরত্বের আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

উত্তর:

প্রশ্ন ২

  1. ভারত জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ফরেন মিলিটারি সেলস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করে।
  2. ভারত সরাসরি বাণিজ্যিক বিক্রির মাধ্যমে জ্যাভলিন সংগ্রহ করে।
  3. চুক্তিতে কোনো যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব নেই।
  4. চুক্তি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়।

উত্তর:

প্রশ্ন ৩

  1. ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের সঙ্গে জ্যাভলিন যৌথ উৎপাদনের জন্য একটি MoU স্বাক্ষর করেছে।
  2. ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে অংশগ্রহণ নেই।
  3. কোনো ভারতীয় উৎপাদনকারী ছাড়াই চুক্তি হয়েছে।
  4. জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য সংগ্রহ।

উত্তর:

তথ্যসূত্র