চার বছরের নিষেধাজ্ঞার পর ২০২৬ সালে সীমিত পরিমাণে গম রপ্তানির অনুমতি দিল ভারত।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ভারত ২৫ লক্ষ টন গম এবং ৫ লক্ষ টন গমজাত পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম শিথিলতা। আনুষ্ঠানিকভাবে গম 'নিষিদ্ধ' রপ্তানি তালিকাভুক্ত থাকলেও এখন নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণে রপ্তানি অনুমোদিত। বর্ধিত আবাদি জমি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গম উৎপাদন রেকর্ড ১২০.২ মিলিয়ন টন হবে বলে ধারণা। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখার জন্য ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় মজুত রয়েছে, যা এই পরিমিত রপ্তানি নীতি পরিবর্তন সম্ভব করেছে। এই নীতি শিথিলতার পর মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভারতীয় গম আমদানিতে আগ্রহ প্রদর্শন করেছে।
মূল তথ্য
- ভারত প্রধানত কম ফসল উৎপাদন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি ক্রয় কমে যাওয়ায় বাফার স্টক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ১৩ মে ২০২২-এ গম রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
- ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ভারত সরকার ২৫ লক্ষ টন গম এবং ৫ লক্ষ টন গমজাত পণ্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।
- ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ অতিরিক্ত ২.৫ লক্ষ টন গম রপ্তানির কোটা অনুমোদিত হয়, যার ফলে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- বৈদেশিক বাণিজ্য নীতির আওতায় সরকারি গম রপ্তানি নীতি এখনও 'নিষিদ্ধ' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, তবে ডিজিএফটি কর্তৃক ঘোষণা করা কঠোর শর্ত ও নির্ধারিত চ্যানেলের মাধ্যমে সীমিত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।
- আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৫-২৬ শস্য বছরের জন্য গম উৎপাদন রেকর্ড ১২০.২ মিলিয়ন টন হওয়ার অনুমান করা হয়েছে।
- খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (এফসিআই) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় মজুত প্রায় ১.৮২ মিলিয়ন টন গম থাকবে, যা অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।
- মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশসহ দেশগুলো এই নিয়ন্ত্রিত রপ্তানি কাঠামোর আওতায় ভারতীয় গম আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের মে মাসে আরোপিত গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাটি অভ্যন্তরীণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং প্রত্যাশার চেয়ে কম ফসল উৎপাদন ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) প্রকল্পের অধীনে সরকারি ক্রয় কম হওয়ায় পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্বেগের ফলস্বরূপ গৃহীত হয়েছিল। এই ব্যবস্থা বিবেচনামূলক ছিল এবং আমদানিকারক দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমস্বরূপ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হত। অনুকূল আবহাওয়া এবং বপন এলাকার বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ কৃষি মৌসুমে গম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে, যার ফলে উদ্বৃত্ত মজুদ সৃষ্টি হয় এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পুনর্বিবেচনার সুযোগ আসে।
ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া গণবন্টন ব্যবস্থা (পিডিএস) ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় গম মজুত পরিচালনা করে এবং নিশ্চিত করে যে রপ্তানি নীতি অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত না করে। রপ্তানির জন্য এখনও সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসরণ করা হয়।
পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিকতা
এই ঘটনাটি ভারতের কৃষি নীতি প্রণয়নে খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের গতিশীল পদক্ষেপের উদাহরণ। এটি ডিজিএফটি ও এফসিআই-এর ভূমিকা এবং উৎপাদন পর্যায় কৃষি বাণিজ্য নীতিতে প্রতিফলিত হওয়ার দিক তুলে ধরে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার শুরু ও শিথিলতার সময়কাল, নীতি পরিবর্তনের কারণ, বাফার স্টকের গুরুত্ব এবং ভারতের বৈশ্বিক গম বাজারে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। এই বিষয়টি কৃষি অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিস্তৃত দিক বুঝতে সাহায্য করে।
মনে রাখার বিষয়
- প্রধানত খাদ্য নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ১৩ মে ২০২২ থেকে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ।
- ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ২৫ লক্ষ টন গম এবং ৫ লক্ষ টন গমজাত পণ্য রপ্তানির অনুমতি।
- ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে অতিরিক্ত ২.৫ লক্ষ টন গম রপ্তানি অধিকার।
- গম আনুষ্ঠানিকভাবে 'নিষিদ্ধ' রপ্তানি তালিকাভুক্ত থাকলেও, সীমিত পরিমাণে রপ্তানির অনুমতি বিদ্যমান।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গম উৎপাদনের রেকর্ড ১২০.২ মিলিয়ন টন।
- ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এফসিআই কেন্দ্রীয় মজুত আনুমানিক ১.৮২ মিলিয়ন টন।
- মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো রপ্তানিতে আগ্রহী।
- সরকার রপ্তানি শিথিলতা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার এবং বাফার স্টক রক্ষায় জোর দেয়।