কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি বিষয়ে ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১৯ মে ২০২৬ তারিখে, ভারত ও ভিয়েতনাম হ্যানয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ভিয়েতনামের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফান ভান জিয়াং-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তিটি বিনিময় করা হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বর্ধিত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের উপরে নির্মিত এবং এতে ভারতের মিলিটারি কলেজ অফ টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভিয়েতনামের টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিভার্সিটির মধ্যে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই এমওইউ-তে ভারতীয় সহায়তায় নহা ট্রাং-এর টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিভার্সিটিতে একটি এআই গবেষণাগার স্থাপন এবং ভিয়েতনাম এয়ার ফোর্স অফিসার্স কলেজে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব উদ্বোধন করার কথা বলা হয়েছে।
মূল তথ্য
- স্বাক্ষরের তারিখ: ১৯ মে ২০২৬
- অবস্থান: হ্যানয়, ভিয়েতনাম
- স্বাক্ষরকারীগণ: ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ভিয়েতনামের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফান ভান জিয়াং
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ: মিলিটারি কলেজ অফ টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং (ভারত) এবং টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিভার্সিটি (ভিয়েতনাম)
- সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
- নহা ট্রাং-এর টেলিযোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি এআই গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা
- ভারতীয় সহায়তায় ভিয়েতনাম এয়ার ফোর্স অফিসার্স কলেজে ভাষা পরীক্ষাগারের উদ্বোধন
- এই চুক্তি স্বাক্ষরটি হো চি মিনের ১৩৬তম জন্মবার্ষিকীর সাথে মিলে গিয়েছিল।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ভারত ও ভিয়েতনাম একটি বর্ধিত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখে, যা ভারত কর্তৃক স্বীকৃত সর্বোচ্চ স্তরের দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতা। তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক শিক্ষা। ২০২৬ সালের সমঝোতা স্মারকটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্র, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে সম্প্রসারণের সূচনা করে, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে রয়েছে প্যাটার্ন শনাক্তকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বুদ্ধিমান সিস্টেমের উন্নয়ন, অন্যদিকে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতিগুলো প্রয়োগ করে, যার মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, যোগাযোগ এবং সেন্সিং।
পরীক্ষার জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
এই সমঝোতা স্মারকটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি কূটনীতির একটি দৃষ্টান্ত, যা প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে। এটি উদীয়মান প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমসাময়িক প্রবণতাগুলোকে তুলে ধরে। ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নের জন্য প্রার্থীদের তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তা এবং সহযোগিতার প্রকৃতি লক্ষ্য করা উচিত।
মনে রাখার মতো বিষয়
- ২০২৬ সালের ১৯ মে হ্যানয়ে রাজনাথ সিং এবং ফান ভান জিয়াং-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে বর্ধিত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি অংশ, যা উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিচায়ক।
- প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, যা সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
- ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাং-এর টেলিযোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি এআই গবেষণাগার স্থাপন করা হবে।
- ভারতীয় সহায়তায় ভিয়েতনাম এয়ার ফোর্স অফিসার্স কলেজে যৌথভাবে একটি ভাষা গবেষণাগার উদ্বোধন করা হয়েছিল।
- এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতার প্রমাণ দেয়।
তথ্যসূত্র
- India and Vietnam reviews defence partnership, discuss further cooperation in maritime security - The Hindu BusinessLine
- India, Vietnam discuss deepening defence ties as Rajnath Singh meets Phan Van Giang in Hanoi - The Indian Express
- Joint Statement on Enhanced Comprehensive Strategic Partnership between the Republic of India and the Socialist Republic of Vietnam | Prime Minister of India