কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ রোজগার বাংলা এআই-সহায়িত সম্পাদকীয় ডেস্ক এই দিনের সব খবর →

বেলজ প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপ: প্রথম কৃত্রিম শক্তিনি দ্বীপ

বেলজিয়ামের উত্তর সাগরে উপকূল থেকে ৪৫ কিমি দূরে নির্মিত প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপ হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম শক্তি দ্বীপ যা ৩.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতার অফশোর বায়ু বিদ্যুৎকে সংযুক্ত করবে। এটি ৬ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ এনার্জি হাব। দ্বীপটিতে উচ্চ ভোল্টেজ সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎ ইন্টারকানেক্টর সুবিধা থাকবে যা যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সংযোগ নিশ্চিত করবে। প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব নকশায় তৈরি এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে ৬৫০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ পেয়েছে। নির্মাণ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হয়ে ২০৩১ সালে সম্পূর্ণ কার্যক্রমে আসবে।

এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।

বেলজ প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপ: প্রথম কৃত্রিম শক্তিনি দ্বীপ

মূল তথ্য

  • প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপটি উত্তর সাগরে বেলজিয়ামের উপকূল থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
  • কৃত্রিম দ্বীপটি প্রায় ৬ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
  • এটি ৩.৫ গিগাওয়াট (GW) পর্যন্ত অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ ক্ষমতা সংযোগ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
  • দ্বীপটির ভিত্তি ২৩টি বড় কংক্রিট কেইসন নিয়ে গঠিত, প্রতিটি প্রায় ৫৮ মিটার লম্বা, ২৮ মিটার উঁচু এবং প্রায় ২০,০০০ টন ওজনের।
  • নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • প্রকল্পটি ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)-এর ৬৫০ মিলিয়ন ইউরোর গ্রিন ক্রেডিট সুবিধা দ্বারা আংশিকভাবে অর্থায়ন করা হয়েছে, মোট ব্যয় প্রায় ১.১ বিলিয়ন ইউরো।
  • যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগে উচ্চ-ভোল্টেজ অল্টারনেটিং কারেন্ট (HVAC) ও উচ্চ-ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট (HVDC) অবকাঠামো থাকবে।
  • জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির জন্য ‘প্রকৃতি-সমন্বিত নকশা’ অন্তর্ভুক্ত, যেমন গাঙচিল বাসার জন্য তাক, সামুদ্রিক জীবের জন্য রিলিফ প্যানেল, ঝিনুকের প্রবাল প্রাচীর এবং সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান সুরক্ষা।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

বেলজিয়াম নবায়নযোগ্য শক্তিতে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেই প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপ নির্মাণ করছে, যা দ্বিতীয় অফশোর উইন্ড জোনে উৎপাদিত বায়ু শক্তি কাজে লাগাবে। এটি একাধিক অফশোর উইন্ড ফার্ম থেকে বিদ্যুৎ একত্রিত করে জাতীয় গ্রিড এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে ইন্টারকানেক্টরের মাধ্যমে সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পটি ইইউ-এর ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটের বেশি অফশোর উইন্ড ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যের এবং জলবায়ু-নিরপেক্ষ ইউরোপ ২০৫০ অর্জনের অংশ।

নির্মাণে সামুদ্রিক অবকাঠামো প্রকৌশল কাজে জ্যান ডি নুল গ্রুপ ও ডিইএমই গ্রুপকে নিযুক্ত করা হয়েছে, যারা নেদারল্যান্ডসের ভ্লিসিংগেন বন্দরে কেইসন তৈরি ও স্থাপন করবে এবং পরে সাগরে বসাবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বীপে ছোট পোর্ট ও হেলিপ্যাড থাকবে। পরিবেশগত দিক বিবেচনায় ঝিনুক প্রবাল প্রাচীর ও অন্যান্য প্রাণী আবাস তৈরি করা হবে।

পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

প্রিন্সেস এলিসাবেথ আইল্যান্ড প্রকল্পটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভূগোল, পরিবেশ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জন্য প্রাসঙ্গিক মূল বিষয় তুলে ধরে। এটি বিশ্বের প্রথম অফশোর বায়ু শক্তির জন্য তৈরি কৃত্রিম শক্তি দ্বীপ হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নত অবকাঠামো হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। প্রকল্পটি ইইউ শক্তি একীকরণ, আন্তর্জাতিক গ্রিড সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সমন্বয় প্রদর্শন করে। বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ইআইবি) থেকে অর্থায়ন ও অফশোর বায়ু শক্তি ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিক যেমন HVAC/HVDC গ্রিড সংযোগ এবং সামুদ্রিক নির্মাণ প্রক্রিয়াও উদাহরণস্বরূপ।

মনে রাখার বিষয়

  • প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপ হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম শক্তি দ্বীপ যা অফশোর গ্রিড হাব হিসেবে পরিকল্পিত।
  • ৪৫ কিমি দূরে উত্তর সাগরে অবস্থিত এবং ৬ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
  • ৩.৫ গিগাওয়াট অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ সংহতকরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
  • ২৩টি বড় কংক্রিট কেইসন দ্বীপের কাঠামো গঠন করে।
  • ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ ও ২০৩১ সালের মধ্যে পূর্ণ অপারেশনার পরিকল্পনা।
  • ৬৫০ মিলিয়ন ইউরো ঋণসহ মোট ব্যয় প্রায় ১.১ বিলিয়ন ইউরো।
  • ‘প্রকৃতি-সমন্বিত নকশা’ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ঝিনুক, প্রবাল প্রাচীর ও অন্যান্য সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বাড়ানো হয়েছে।
  • দ্বীপটি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগে কার্যকর কেন্দ্র হবে, যা শক্তি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

অনুশীলনী MCQ

প্রশ্ন ১

  1. প্রিন্সেস এলিসাবেথ দ্বীপের মাধ্যমে কত গিগাওয়াট অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে?
  2. ২.৫ গিগাওয়াট
  3. ৩.৫ গিগাওয়াট
  4. ৪.৫ গিগাওয়াট
  5. ৫.৫ গিগাওয়াট

উত্তর:

প্রশ্ন ২

  1. প্রিন্সেস এলিসাবেথ আইল্যান্ড কখন সম্পূর্ণরূপে চালু হবে?
  2. ২০২৭
  3. ২০২৮
  4. ২০৩০
  5. ২০৩১

উত্তর:

প্রশ্ন ৩

  1. প্রিন্সেস এলিসাবেথ আইল্যান্ড প্রকল্পের জন্য প্রধান গ্রিন ক্রেডিট সুবিধা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে?
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  4. ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক
  5. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক

উত্তর:

তথ্যসূত্র