বিহার ও ঝাড়খন্ডের সোন নদী জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো
২৫ বছর ধরে চলা সোন নদীর জলবণ্টন বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিহার ও ঝাড়খন্ড রাজ্য এক জলবণ্টন চুক্তিতে সম্মত হলো। ১৯৭৩ সালের বনসাগর চুক্তির অধীনে আনডিভাইডেড বিহারের পাওয়া মোট ৭.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট জল থেকে বিহার পাচ্ছে ৫.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট আর ঝাড়খন্ড পাচ্ছে ২ মিলিয়ন একর-ফুট। কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রক ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়। এর ফলে বিহারের আটটি জেলার কৃষি সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধ দূর হবে।
এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।
মূল তথ্য
- বিহার ও ঝাড়খন্ড ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সোন নদীর জলবণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
- বনসাগর চুক্তির আওতায় অনডিভাইডেড বিহারের বরাদ্দ ৭.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট জলের মধ্যে থেকে বিহার পাবে ৫.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট এবং ঝাড়খন্ড পাবে ২.০ মিলিয়ন একর-ফুট জল।
- বনসাগর চুক্তি ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং অনডিভাইডেড বিহারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- সোন নদী গঙ্গার একটি প্রধান উপনদী এবং পূর্ব ভারতের সেচ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রক ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এই চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে বিহারের আটটি জেলার কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ঝাড়খন্ড ২০০০ সালে বিহার থেকে পৃথক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সোন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিহার ও ঝাড়খন্ডের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল, যা প্রায় ২৫ বছর দীর্ঘায়িত হয়। বনসাগর চুক্তি অনুযায়ী অনডিভাইডেড বিহারের পানির বরাদ্দ ছিল ৭.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট। ঝাড়খন্ড একটি নির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট ভাগের দাবি জানালেও বিহার সেচের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিরোধ করছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোনাল কাউন্সিলের সভায় এই বিরোধের সমাধানে অগ্রগতি হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সভাপতিত্ব করেন। বিহার সরকার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই জলবণ্টন চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়। চুক্তির মাধ্যমে ইন্দ্রাপুরি রিজার্ভয়ার নির্মাণের অনুমতিও নিশ্চিত হয়।
পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
সোন নদীর জলবণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন চলমান আন্তঃরাজ্য জলবণ্টন বিরোধ সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মধ্যস্থতায় দুই রাজ্যের মধ্যে এই চুক্তি, জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের পথে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। পরীক্ষায় এটি জলবণ্টন নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখার বিষয়
- সোন নদী একটি গঙ্গার প্রধান উপনদী এবং পূর্ব ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- বনসাগর চুক্তি ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও অনডিভাইডেড বিহারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- ঝাড়খন্ড ২০০০ সালে বিহার থেকে পৃথক হয়েছে।
- চুক্তিটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- বিহার পানির ৭.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট বরাদ্দের মধ্যে ৫.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট জল পাবে, ঝাড়খন্ড পাবে ২ মিলিয়ন একর-ফুট।
- ইন্দ্রাপুরি রিজার্ভয়ার নির্মাণের অনুমতিও চুক্তির অংশ।
অনুশীলনী MCQ
প্রশ্ন ১
- সোন নদী কোন নদীর উপনদী?
- গঙ্গা নদী
- যমুনা নদী
- গোদাবরী নদী
- সদস্য নদী
উত্তর: গঙ্গা নদী। সোন নদী গঙ্গার একটি প্রধান উপনদী।
প্রশ্ন ২
- বনসাগর চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
- ১৯৭৩
- ১৯৮০
- ২০০০
- ২০২৬
উত্তর: ১৯৭৩ সাল। বনসাগর চুক্তি ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং অনডিভাইডেড বিহারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩
- সোন নদীর জলবণ্টন চুক্তি কোন বছর স্বাক্ষরিত হয়েছে?
- ২০২৫
- ২০২৬
- ২০০০
- ১৯৭৩
উত্তর: ২০২৬। বিহার ও ঝাড়খন্ডের মধ্যে সোন নদীর জলবণ্টন চুক্তি ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়।