নাসার লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার রে ২০২৪ সালে চাঁদের নতুন বড় ক্রেটার 'ম্যাকগেটচিন'
নাসার লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার (LRO) ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে চাঁদের নিকটবর্তী পার্শ্বে একটি নতুন বৃহৎ নিক্ষেপ ক্রেটার আবিষ্কার করেছে, যার নাম থমাস ম্যাকগেটচিনের নামে রাখা হয়েছে। ক্রেটারটির ব্যাস প্রায় ২২২ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৩ মিটার। এটি সৌরজগতের সর্বশেষ ও বৃহত্তম প্রমাণিত নিক্ষেপ ক্রেটার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।
মূল তথ্য
- ক্রেটারটি ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে ২০২৪ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
- ক্রেটারের নাম 'ম্যাকগেটচিন', যা থমাস ম্যাকগেটচিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে, তিনি লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ছিলেন।
- ক্রেটারের ব্যাসার্ধ প্রায় ২২২ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৩ মিটার।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক নিক্ষেপ ক্রেটার হিসেবে পরিচিত, যা লুনার রিকনেসেন্স অরবিটারের আগের আবিষ্কারের প্রায় তিনগুণ বড়।
- ইমপ্যাক্টের ফলে চাঁদের মাটি ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
- ক্রেটারের আশেপাশে প্রায় ৭ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি ঠান্ডা এলাকা রয়েছে, যা চাঁদের উপরের ভূমি (রেগোলিথ) নরম হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
- ইমপ্যাক্টকারী পাথরটি ছিল তিন থেকে ছয় তলা একটি ভবনের সমতুল্য আকারের।
- এই ইমপ্যাক্টটি প্রথমে পৃথিবী এবং মহাকাশের টেলিস্কোপ দ্বারা শনাক্ত হয়নি।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার (LRO) হল নাসার একটি মহাকাশযান যা ২০০৯ সালে চালু হয়। এটি চাঁদের পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করে এবং পৃষ্ঠের উষ্ণতা, গঠন, বিকিরণ ও উপাদানের তথ্য সংগ্রহ করে। চাঁদের নিকটপাশ হচ্ছে চাঁদের এমন একটি অংশ যা সবসময় পৃথিবীর দিকে থাকে, কারণ চাঁদের ঘূর্ণন পৃথিবীর সাথেই সিঙ্ক্রোনাইজড।
মহাকাশ থেকে আসা শিলা, অ্যাস্টেরয়েড, কমেট বা মেটিওরয়েড উচ্চ গতিতে আঘাত করলে চাঁদের পৃষ্ঠে ক্রেটার সৃষ্টি হয়। চাঁদের বায়ুমণ্ডল খুবই পাতলা হওয়ায় এসব শরীর সরাসরি পৃষ্ঠে আঘাত হানে।
পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
ম্যাকগেটচিন ক্রেটার আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞান ও ভূতত্ত্ব, বিশেষ করে লুনার সায়েন্স, মহাকাশ অভিযান এবং সৌরজগতের গঠনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার ও এর মিশনের ভূমিকা বুঝতে পারা এবং চাঁদ সম্পর্কিত প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক।
মনে রাখার বিষয়
- ম্যাকগেটচিন হলো ২০২৪ সালে চাঁদের নিকটপাতায় আবিষ্কৃত বৃহৎ নিক্ষেপ ক্রেটার।
- ক্রেটারের ব্যাসার্ধ প্রায় ২২২ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৩ মিটার।
- ক্রেটারটি থমাস ম্যাকগেটচিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি লুনার বিজ্ঞানী ছিলেন।
- ক্রেটারের ইমপ্যাক্টকারী পাথরটি ছিল একটি তিন থেকে ছয় তলা ভবনের সমতুল্য।
- ক্রেটারের আশেপাশে ঠান্ডা এলাকা পাওয়া গেছে, যা চাঁদের উপরের ভূমির (রেগোলিথ) পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়।
- লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন যা চাঁদের পৃষ্ঠ বিশ্লেষণ এবং এ ধরনের ক্রেটার আবিষ্কারে সহায়তা করছে।
অনুশীলনী MCQ
প্রশ্ন ১
- ম্যাকগেটচিন ক্রেটার কোন বছরে তৈরি হয়েছে?
- ২০১৯
- ২০২৪
- ২০২০
- ২০১৫
উত্তর: ২০২৪
প্রশ্ন ২
- ম্যাকগেটচিন ক্রেটারের নামকরণ কার নামে করা হয়েছে?
- থমাস ম্যাকগেটচিন
- রবার্ট ওয়াগনার
- নাসার একজন প্রকৌশলী
- একজন আমেরিকান নভোচারী
উত্তর: থমাস ম্যাকগেটচিন
প্রশ্ন ৩
- ম্যাকগেটচিন ক্রেটারের ব্যাসার্ধ কত?
- ১০০ মিটার
- ১৫০ মিটার
- ২২২ মিটার
- ৩০০ মিটার
উত্তর: ২২২ মিটার