২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় পাকিস্তানকে ঘটনাস্থলে কারিগরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন।
৭ মে ২০২৬ তারিখে, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ‘অপারেশন সিন্ধুর’ নামে পরিচিত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সাথে চার দিনব্যাপী সংঘাতের সময় তারা পাকিস্তানকে ঘটনাস্থলে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছিল। এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়নার চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীনা প্রকৌশলী ঝাং হেং জানান যে, তিনি এবং তার দল যুদ্ধে ব্যবহৃত চীনা-নির্মিত জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পাকিস্তানকে সহায়তা করেছেন। জানা গেছে, পাকিস্তানের জে-১০সিই বিমানগুলো রাফাল যুদ্ধবিমানসহ ভারতীয় বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করে, যা এই সংঘাতে চীনের উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহালগামে একটি জঙ্গি হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যার প্রতিশোধ হিসেবে পাল্টা হামলা চালানো হয়। চীনের এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের সাথে তাদের গভীর সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গতিপ্রকৃতির ওপর এর প্রভাব রয়েছে।
মূল তথ্য
- চীন ৭ মে ২০২৬ তারিখে নিশ্চিত করেছে যে, ৭ থেকে ১০ মে ২০২৫ পর্যন্ত ভারতের সাথে চার দিনব্যাপী সংঘর্ষের সময় তারা পাকিস্তানকে ঘটনাস্থলে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছিল।
- ভারত কর্তৃক ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত এই সংঘাতটি, ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহালগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ একটি জঙ্গি হামলার জের ধরে শুরু হয়, যার ফলে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
- চায়না এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীনা প্রকৌশলী ঝাং হেং প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানকে বিশেষভাবে চীনে তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
- জে-১০সিই যুদ্ধবিমানগুলো হলো চীন কর্তৃক পাকিস্তানকে সরবরাহ করা বহুমুখী যুদ্ধবিমান; তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের এই বিমান ব্যবহারের ফলে ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ একাধিক ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
- ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চীন পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৮১ শতাংশ সরবরাহ করেছে, যা সামরিক সহযোগিতার ব্যাপকতাকে প্রতিফলিত করে।
- প্রকাশ্য সামরিক সহায়তা সত্ত্বেও, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর সংঘাত-পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং কেবল আগ্রাসনের পূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয় ২২ এপ্রিল পাহালগামে চালানো সন্ত্রাসী হামলার পর, যেখানে বেসামরিক নাগরিকরা লক্ষ্যমাত্রা ছিলেন। এর জবাবে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালায়। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পাকিস্তান উন্নত চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক জবাব দেয়। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের এই স্বীকারোক্তি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকার যে, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে তারা পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগতভাবে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে। এটি পূর্বের অস্বীকারগুলোকে বাতিল করে এবং ভারতের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
পরীক্ষার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, চীনের কৌশলগত জোট এবং আঞ্চলিক সংঘাতে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্পর্কিত পরীক্ষার বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়:
- ভারত-পাকিস্তান বিরোধের ক্রমবর্ধমান প্রকৃতি এবং আঞ্চলিক জোটগুলোতে এর প্রভাব।
- কারিগরি কর্মী মোতায়েন ও উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানকে চীনের কৌশলগত সামরিক সহায়তা যা সামরিক ভারসাম্য প্রভাবিত করে।
- আধুনিক আকাশযুদ্ধে চীনা-নির্মিত সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষত J-10CE যুদ্ধবিমানের ভূমিকা ও সক্ষমতা।
- দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সম্পৃক্ততার ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা অধ্যয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখার বিষয়
- অপারেশন সিঁদুর (৭–১০ মে ২০২৫) ছিল পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ।
- এই সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য কারিগরি কর্মী মোতায়েনের বিষয়টি চীন ৭ মে ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
- চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী ঝাং হেং পাকিস্তানের J-10CE যুদ্ধবিমানে চীনের কারিগরি সহায়তার বিষয়ে জনসমক্ষে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
- প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের চীন-নির্মিত J-10CE বিমান ব্যবহারের ফলে ফরাসি রাফালসহ একাধিক ভারতীয় বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন পাকিস্তানের অস্ত্র সরবরাহের ৮০%-এরও বেশি অংশ দিয়েছে, যা গভীর সামরিক সম্পর্কের পরিচায়ক।
- উত্তেজনার মাঝেও পাকিস্তান ভারতীয় কূটনীতি ও সংলাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
তথ্যসূত্র
- China confirms technical support to Pakistan during clash with India
- A year after Operation Sindoor, China admits helping Pakistan's air force during confrontation with India: Report
- China’s Role in the India-Pakistan Clash | German Marshall Fund of the United States
- China confirms first combat success of J-10CE fighter jet during 2025 India–Pakistan War