ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬: বিশ্ব শাসন সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১০-দফা কর্মপরিকল্পনা
২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য যুগান্তকারী ১০-দফা রোডম্যাপ পেশ করেন। প্রস্তাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথকে 'নিয়ম গ্রহণকারী' থেকে 'নিয়ম প্রণেতা' হিসেবে ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। মোদী বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য 'সুবিধার পিরামিড' থেকে 'অংশীদারিত্বের মঞ্চ'ে রূপান্তরের কথা উপস্থাপন করেন। এই রোডম্যাপটি BRICS ও গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব নিশ্চিত করবে, বিশেষ করে উদীয়মান প্রযুক্তি ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার ক্ষেত্রে।
এই প্রতিবেদনটি এআই-সহায়তায় প্রস্তুত এবং স্বয়ংক্রিয় মান যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়েছে।
মূল তথ্য
- ভারতের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা; এই জোটটি অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি ১০-দফা রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছেন।
- এই রোডম্যাপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সময়সীমাবদ্ধ পুনর্গঠন করে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্থায়ী আসন প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার, কোটা বরাদ্দ এবং নেতৃত্ব কাঠামো আধুনিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই করার জন্য সংস্কারের পক্ষে এই রোডম্যাপ সমর্থন জানায়।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও জৈবপ্রযুক্তি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিয়ম প্রণয়নে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ব্রিকস আদিতে ২০০৯ সালে ব্রিক (BRIC) নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়ে সম্প্রসারিত হয়; এটি প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি আন্তঃসরকারি গোষ্ঠী। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ব্রেটন উডস আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ২০শ শতকের মাঝামাঝির ভূ-রাজনীতির প্রতিফলন, যার ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সীমিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১০-দফা রোডম্যাপ এই ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে নিষ্ক্রিয় নিয়ম গ্রহণকারী থেকে সক্রিয় নিয়ম প্রণেতায় রূপান্তরিত করে একটি বহুকেন্দ্রিক, অংশীদারিত্বভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল গড়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত। সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক শাসন সংস্কারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১০-দফা রোডম্যাপটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায়ন এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্বব্যবস্থা গঠনের ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। বর্তমান বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক শাসন, ও ভারতের পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য এই সংস্কারগুলি বোঝা অপরিহার্য। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং গ্লোবাল সাউথের ক্ষমতায়ন প্রায়শই পরীক্ষার বিষয় হয়ে থাকে।
মনে রাখার বিষয়
- ভারত ২০২৬ সালের ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।
- ব্রিকস সদস্য ও অংশীদারদের মধ্যে ঐক্য প্রকাশ করে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহিতা ও নিয়ম-প্রণয়ন সংস্কারে কেন্দ্রিক একটি ১০-দফা ব্রিকস রোডম্যাপ প্রস্তাব করেন।
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গ্লোবাল সাউথের জন্য স্থায়ী আসন প্রদানের জন্য জরুরিভাবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
- আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব কাঠামো একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যের জন্য পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস, জৈবপ্রযুক্তি ও মহাকাশ ব্যবস্থাপনায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- বর্তমান ‘সুবিধার পিরামিড’ প্রতিস্থাপন করে ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
- উপস্থিত প্রধান নেতাদের মধ্যে ছিলেন শি জিনপিং (চীন), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়া), সিরিল রামাফোসা (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং মোদী (ভারত) ছিলেন সভাপতিত্বকারী।
অনুশীলনী MCQ
প্রশ্ন ১
- ২০২৬ সালে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
- এ) জোহানেসবার্গ
- খ) বেইজিং
- গ) নতুন দিল্লি
- ডি) ব্রাসিলিয়া
উত্তর: গ) নতুন দিল্লি
প্রশ্ন ২
- ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রস্তাবিত ১০-দফা রোডম্যাপের মূল উদ্দেশ্য কী?
- ক) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা
- খ) আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গ্লোবাল সাউথের প্রভাব কমানো
- গ) বৈশ্বিক শাসন সংস্কার করে গ্লোবাল সাউথকে 'নিয়ম-প্রণেতা' হিসেবে ক্ষমতায়ন করা
- ঘ) ব্রিকস জোট ভেঙে দেওয়া
উত্তর: গ) বৈশ্বিক শাসন সংস্কার করে গ্লোবাল সাউথকে 'নিয়ম-প্রণেতা' হিসেবে ক্ষমতায়ন করা
প্রশ্ন ৩
- ব্রিকস রোডম্যাপে কোন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার ও কোটা বরাদ্দের সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল?
- ক) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক
- খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক
- গ) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- ঘ) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও ইউনিসেফ
উত্তর: খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক
তথ্যসূত্র
- BRICS Adopts 10-Point Global Governance Reform Roadmap – GKToday
- Charting A New Global South Consensus: Key Takeaways From The 18th BRICS Summit In New Delhi
- Modi at BRICS Summit: ‘UNSC reforms can no longer wait’, PM calls for global governance overhaul - BusinessToday
- Global South must be 'rule-shaper' not 'rule-follower': Modi - Rediff.com India News