রাশিয়ার এস৮০০০ বান্দেরল আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে
২০২৬ সালের ১২ জুলাই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে এস৮০০০ বান্দেরল নামে একটি হালকা ওজনের আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা স্বীকার করে, যা দীর্ঘ দূরত্বে নির্ভুল আঘাতের জন্য তৈরি। ২৯ জুলাই ২০২৬-র মধ্যে এটি পরীক্ষায় সফল হয় এবং ধারাবাহিক উৎপাদনে প্রবেশ করে, যার নকশা ২০২৫ সালের মডেল থেকে উন্নত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ইনোখোদেৎস (ওরিয়ন) ইউএভি, এমআই-২৮ আক্রমণ হেলিকপ্টার ও সাময়িকভাবে দখলকৃত ক্রিমিয়ায় সন্দেহভাজন ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। এটি চালিত হয় চীনা সুইউইন টার্বোজেট ইঞ্জিন দিয়ে এবং সজ্জিত থাকে OFBCh-১৫০ উচ্চ-বিস্ফোরক খণ্ডনশীল ওয়ারহেড দ্বারা, যা প্রায় ৪৯.৫ কেজি বিস্ফোরক ধারণ করে। এর পাল্লা বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী ৩৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার বলে ধারনা করা হয়। মূলত বন্দর, লজিস্টিক হাব ও খাদ্য গুদামের মতো স্থির অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়।
মূল তথ্য
- এস৮০০০ বান্দেরল একটি হালকা ওজনের আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দ্বারা ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত।
- ২৯ জুলাই ২০২৬-র মধ্যে এর পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়ে ধারাবাহিক উৎপাদনে প্রবেশ করেছে, এবং ২০২৫ সাল থেকে এর নকশার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।
- উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রয়েছে ইনোখোদেৎস (ওরিয়ন) মনুষ্যবিহীন আকাশযান, এমআই-২৮ আক্রমণ হেলিকপ্টার এবং সাময়িকভাবে দখলকৃত ক্রিমিয়ায় সন্দেহভাজন ভূমি ভিত্তিক লঞ্চার।
- ক্ষেপণাস্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ চীনা সুইউইন টার্বোজেট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত।
- এতে আছে OFBCh-১৫০ ওয়ারহেড, যা প্রায় ৪৯.৫ কেজি বিস্ফোরক ধারণ করে উচ্চ-বিস্ফোরক খণ্ডনশীল ধরনের।
- ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দার মতে, এর পাল্লা ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার, অন্য কিছু তথ্য অনুযায়ী ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- এতে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, জাপান, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা বিদেশি ইলেকট্রনিক উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
এস৮০০০ বান্দেরল রাশিয়ার একটি স্বল্পমূল্যের, বহুমুখী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যা দীর্ঘ দূরত্বের নির্ভুল আঘাতের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, বিশেষত বন্দর, রসদ কেন্দ্র এবং খাদ্য গুদামের মতো স্থির লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে ইনোখোদেৎস (ওরিয়ন) ড্রোনের সাথে যুক্ত হলেও, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের শেষে এটি এমআই-২৮ আক্রমণ হেলিকপ্টার এবং ক্রিমিয়ায় ভূমি থেকে উৎক্ষেপণও করা হয়। বিদেশি উপাদানের উপস্থিতি জটিল সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সম্ভাব্য দুর্বলতার পরিচায়ক। ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রনস্ট্যাড এর উৎপাদন ও অভিযোজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি। বিতর্কিত ক্রিমিয়ায় এটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা আঞ্চলিক চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিত তুলে ধরে।
পরীক্ষার জন্য এর গুরুত্ব
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ভূ-রাজনীতি এবং রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ কেন্দ্রীক নিরাপত্তা অধ্যয়নের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এস৮০০০ বান্দেরল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশ সম্পর্কে জ্ঞান অপরিহার্য। গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির তারিখ, পরীক্ষা সমাপ্তি, উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, ইঞ্জিনের উৎস, ওয়ারহেডের বিশদ এবং পাল্লা। ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকর ভূমিকা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বোঝা আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক, বিশেষ করে ইউক্রেন সংঘাত ও রাশিয়ার সামরিক আধুনিকীকরণের প্রেক্ষাপটে।
মনে রাখার জন্য প্রধান পয়েন্টসমূহ
- আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির তারিখ: ১২ জুলাই ২০২৬
- পরীক্ষণ সম্পন্ন ও ধারাবাহিক উৎপাদনে প্রবেশ: ২৯ জুলাই ২০২৬
- উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম: ইনোখোদেৎস (ওরিয়ন) ইউএভি, এমআই-২৮ আক্রমণ হেলিকপ্টার, ক্রিমিয়ায় সন্দেহভাজন ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র
- ইঞ্জিন: চীনা সুইউইন টার্বোজেট
- ওয়ারহেড: OFBCh-১৫০ উচ্চ-বিস্ফোরক খণ্ডনশীল, প্রায় ৪৯.৫ কেজি বিস্ফোরক
- পরিসর: ইউক্রেনীয় তথ্য অনুযায়ী ৩৫০ থেকে ৪০০ কি.মি., অন্যত্র ৫০০ কি.মি. পর্যন্ত
- ব্যবহার: বন্দর, লজিস্টিক কেন্দ্র এবং খাদ্য গুদামসহ স্থির অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আঘাত
- বিদেশি ইলেকট্রনিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত, যার উৎস যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, জাপান, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া