তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশন অভিযানের জন্য চীন পাকিস্তানি মহাকাশচারী নির্বাচন করেছে
এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে, চীন তার তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে একটি অভিযানের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের প্রার্থী হিসেবে দুই পাকিস্তানি মহাকাশচারী, মুহাম্মদ জিশান আলী এবং খুররম দাউদকে নির্বাচিত করেছে। এই প্রথমবার চীন তার মনুষ্যবাহী মহাকাশ কর্মসূচির জন্য বিদেশি মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে, একজন প্রার্থীকে তিয়াংগং-এ একটি স্বল্প-মেয়াদী অভিযানের জন্য পেলোড বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত করা হবে, যিনি সম্ভবত চীনা মহাকাশ স্টেশনের প্রথম বিদেশি মহাকাশচারী এবং পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশকারী প্রথম পাকিস্তানি হবেন। এই উদ্যোগটি চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি এবং পাকিস্তানের সুপারকো-এর মধ্যে ২০২৫ সালের একটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির ফলস্বরূপ, যা চীনের সম্প্রসারিত মহাকাশ প্রচেষ্টায় ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের প্রতীক।
মূল তথ্য
- নির্বাচিত দুই পাকিস্তানি মহাকাশচারী: মুহাম্মদ জিশান আলী এবং খুররম দাউদ।
- চীনের তিয়াংগং মহাকাশ কেন্দ্রে একটি স্বল্পমেয়াদী অভিযানের জন্য একজনকে পেলোড বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
- চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি (CMSA)-এর তত্ত্বাবধানে চীনে মহাকাশচারীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
- ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে CMSA এবং পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (SUPARCO)-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তিয়াংগং হলো চীনের মডিউলার ও স্থায়ীভাবে ক্রু বহনকারী মহাকাশ স্টেশন, যা ২০২২ সাল থেকে কার্যকর আছে।
- এই মিশনের মাধ্যমে প্রথমবার কোনো বিদেশি মহাকাশচারী তিয়াংগং সফর করবেন এবং প্রথম পাকিস্তানি মহাকাশে প্রবেশ করবেন।
- পেলোড বিশেষজ্ঞরা মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ পরিচালনায় নিয়োজিত থাকেন।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
চীন আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে তার মনুষ্যবাহী মহাকাশ কর্মসূচি উন্নয়ন করছে। তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশন এমন এক মঞ্চ যা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। পাকিস্তান তার জাতীয় মহাকাশ সংস্থা SUPARCO-র মাধ্যমে চীনের সঙ্গে অংশীদারি গড়ে তুলেছে এবং ২০২৫ সালের চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকীকরণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নভোচারী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ অভিযান। পাকিস্তানি নভোচারী প্রার্থীদের নির্বাচন ও চীনে প্রশিক্ষণ, দুই দেশের মধ্যে সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতার এক নিদর্শন যা প্রচলিত খাতের বাইরে মহাকাশ প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত।
পরীক্ষার জন্য এর গুরুত্ব / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এটি চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের প্রসার, পাকিস্তানের মানব মহাকাশযাত্রায় অগ্রগতি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক মহাকাশ সহযোগিতার মূল ঘটনাবলী ও প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচিতি প্রদান করে। পেলোড বিশেষজ্ঞের ভূমিকা, তিয়াংগং স্টেশনের কৌশলগত গুরুত্ব এবং চীন-পাকিস্তান সহযোগিতার মাইলফলক বোঝা পরীক্ষার সফলতার জন্য অপরিহার্য।
মনে রাখার বিষয়সমূহ
- পাকিস্তানি মহাকাশচারী প্রার্থীদের নাম: মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদ।
- পেলোড বিশেষজ্ঞের দায়িত্বে মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন অন্তর্ভুক্ত।
- তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনের মডিউলগুলো ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে উৎক্ষেপিত হয়েছে এবং স্থায়ী ক্রুবাহী মিশন চলছে।
- CMSA ও SUPARCO ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহাকাশ সহযোগিতা ও মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে।
- এই মিশনে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো মানব মহাকাশযাত্রায় প্রবেশ করবে।
- রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনের মনুষ্যবাহী মহাকাশ কর্মসূচি মানুষের স্বাধীন মহাকাশযাত্রার তৃতীয় উদ্যোগ।
- শেনঝৌ মহাকাশযান ও লং মার্চ ২F রকেটগুলো জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয় এই প্রশিক্ষণ ও অভিযানে ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র
- China selects Pakistani astronauts for Tiangong mission
- Astronaut from Pakistan will be 1st international visitor to China's Tiangong space station | Space
- Two Pakistani astronauts to train for China's space station missions (Xinhua)
- China and Pakistan sign agreement on astronaut training for Tiangong