পশ্চিমা মৌমাছি অস্ট্রেলিয়ায় মার্টল মরিচা রোগের বিস্তার ত্বরান্বিত করে।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু মার্টল মরিচা (Austropuccinia psidii) ছড়ানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমা মৌমাছিদের (Apis mellifera) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১০ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া মার্টল মরিচা, ইউক্যালিপটাস এবং পেপারবার্কসহ মিরটেসি (Myrtaceae) পরিবারের অনেক দেশীয় প্রজাতিকে আক্রান্ত করে এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১৭% স্থানিক উদ্ভিদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। মৌমাছিরা খাদ্যের উৎস হিসেবে মার্টল মরিচার রেণু সংগ্রহ করে এবং সংক্রামক রেণুগুলো তাদের মৌচাকে বহন করে নিয়ে আসে, যেখানে সেগুলো অন্তত নয় দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। ফসলের পরাগায়নের জন্য বাণিজ্যিক মৌমাছি কলোনিগুলোর ঘন ঘন চলাচল রোগের বিস্তারকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই পরিবেশগত মিথস্ক্রিয়াটি একটি নতুন বাহক পথ হিসেবে কাজ করছে, যা অস্ট্রেলিয়ার দেশীয় উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
মূল তথ্য
- পশ্চিমা মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম Apis mellifera।
- মার্টল মরিচার কারণ হওয়া ছত্রাক হলো Austropuccinia psidii।
- ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার মার্টল মরিচা শনাক্ত করা হয়।
- এই রোগ Myrtaceae পরিবারভুক্ত গাছপালা যেমন ইউক্যালিপটাস, বটলব্রাশ এবং পেপারবার্ককে প্রভাবিত করে।
- মৌচাকে স্পোরগুলি অন্তত নয় দিন জীবন্ত ও সংক্রামক থাকে।
- পরাগায়নের জন্য বাণিজ্যিকভাবে পশ্চিমা মৌমাছি কলোনিগুলো অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়, যা স্পোর বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
মার্টল মরিচা একটি আগ্রাসী ছত্রাক জনিত রোগ যা Austropuccinia psidii নামে পরিচিত এবং অস্ট্রেলিয়ার দেশীয় Myrtaceae পরিবারের নানা উদ্ভিদকে আক্রান্ত করে। ২০১০ সালে এটি আগমনের পর থেকে দ্রুত পূর্ব উপকূল বরাবর ছড়িয়ে পড়ে ইউক্যালিপটাস, পেপারবার্ক, বটলব্রাশ, টি ট্রি এবং লিলি পিলিসহ বিভিন্ন প্রজাতিকে সংক্রমিত করেছে। এই রোগের কারণে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১৭% স্থানিক উদ্ভিদ ঝুঁকির মুখে আছে, যার উপসর্গ হিসেবে পাতায় দাগ, ছিদ্র, শাখা ঝলসানো থেকে গাছের মারাত্মক মৃত্যু এবং স্থানীয় প্রজাতির বিলুপ্তি পর্যন্ত হতে পারে।
পশ্চিমা মৌমাছি, যা অস্ট্রেলিয়ায় ফসলের পরাগায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়, মার্টল মরিচার স্পোরকে পরাগরেণুর মতোই সংগ্রহ করে এবং এগুলোর পুষ্টিমানও প্রায় সমান। এই স্পোরগুলি মৌমাছির লার্ভা বিকাশে সহায়ক। মৌমাছিরা স্পোরগুলো সংগ্রহ করে মৌচাকে বহন করে এবং সেখানে স্পোরগুলি অন্তত নয় দিন পর্যন্ত জীবন্ত থাকে, যা বাণিজ্যিকভাবে মৌচাক পরিবহনের সময় দূরদূরান্তে রোগ ছড়াতে সহায়ক। এই প্রক্রিয়াটিকে "আক্রমণাত্মক পারস্পরিকতা" বলা হয়, যেখানে দুটি প্রবর্তিত প্রজাতি পরোক্ষভাবে একে অপরকে লাভ দেয় এবং পরিবেশগত ক্ষতি বৃদ্ধি করে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব / প্রাসঙ্গিকতা
পশ্চিমা মৌমাছির মাধ্যমে মার্টল মরিচার বিস্তার পরিবেশবিজ্ঞান, জৈবনিরাপত্তা, কৃষি এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যাপার তুলে ধরে। এটি প্রজাতির অনুপ্রবেশের অপ্রত্যাশিত প্রভাব ও আক্রমণাত্মক রোগজীবাণু ও পরাগায়ণকারীদের মধ্যে জটিল পারস্পরিকতা ব্যাখ্যা করে। এই ঘটনাটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে এবং মানুষের কার্যকলাপ যেমন নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ণকারীদের স্থানান্তর ও রোগ বিস্তারে ভূমিকার গুরুত্ব প্রদর্শন করে।
মনে রাখার বিষয়
- Apis mellifera হলো পশ্চিমা মৌমাছি, যা অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পরাগায়ক।
- Austropuccinia psidii মার্টল মরিচার কারণ, যা Myrtaceae পরিবারের উদ্ভিদদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
- মৌমাছি মার্টল মরিচার স্পোর খাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করে; স্পোরগুলো মৌচাকে নয় দিনেরও বেশি জীবন্ত ও সংক্রামক থাকে এবং মৌচাক চলাচলের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে ছড়ায়।
- এই ঘটনা দুই প্রবর্তিত প্রজাতির মধ্যে পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক প্রকাশ করে, যা অস্ট্রেলিয়ার দেশীয় উদ্ভিদ ও পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে।
- কৃষি পরাগায়নের জন্য বাণিজ্যিক মৌচাক স্থানান্তর রোগ বিস্তারের প্রধান মাধ্যম, যা পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ায়।
উৎস
- Honey Bees Spread Myrtle Rust Across Australia - GKToday
- Study Warns Honey Bees Could Accelerate Spread of Myrtle Rust in Australia - Tunisiesoir
- Impact of Austropuccinia psidii (myrtle rust) on Myrtaceae-rich wet sclerophyll forests in south east Queensland - PMC