২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫৫ গিগাওয়াট বায়ু শক্তি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।
ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১৫৫ গিগাওয়াট করার উচ্চাভিলাষী বায়ু শক্তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত, স্থাপিত ক্ষমতা ৫৬.১ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতকে বিশ্বব্যাপী চতুর্থ বৃহত্তম বায়ু শক্তি বাজারে পরিণত করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড পরিমাণ ৬.১ গিগাওয়াট (৪৬% বৃদ্ধি) যুক্ত হয়েছে। এই সম্প্রসারণকে সমর্থন করার জন্য, ভারত আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে বায়ু টারবাইন সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনা এবং মূল উপাদানগুলির দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য তার প্রথম বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'ডব্লিউটি-মারুত' (WT-MARUT) চালু করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী গোয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল উইন্ড ডে কনফারেন্সে এই উদ্যোগগুলি ঘোষণা করেন। ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তির বৃদ্ধি এবং টেকসই লক্ষ্যগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বায়ু শক্তি রয়েছে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ১৫ই জুন নাগাদ ভারতের স্থাপিত বায়ুশক্তি ক্ষমতা ৫৬.১ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে।
- ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটের একটি অন্তর্বর্তীকালীন লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫৫ গিগাওয়াটের একটি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
- ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৬.১ গিগাওয়াট নতুন বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪৬% বৃদ্ধি—এবং এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ বার্ষিক বায়ু বিদ্যুৎ সংযোজন।
- স্থাপিত ক্ষমতার নিরিখে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বায়ু শক্তি বাজার।
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এই লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্যোগগুলি ঘোষণা করেছেন।
- উইন্ড টারবাইন সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে WT-MARUT (Wind Turbine Materials and Resources Utility Tracker) পোর্টালটি ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে চালু করা হয়েছিল।
- বায়ু শক্তি পরিকল্পনাটি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে ব্লেড, টাওয়ার, ন্যাসেল, গিয়ারবক্স, জেনারেটর এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো মূল উপাদানগুলির দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর দেয়।
- বায়ু শক্তি একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, যা বায়ু টারবাইন থেকে প্রাপ্ত গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- ভারতের আনুমানিক বায়ুশক্তির সম্ভাবনা প্রায় ১,১৬৪ গিগাওয়াট, কিন্তু এখন পর্যন্ত এর ৫ শতাংশেরও কম কাজে লাগানো হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার প্রতি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচিতে বায়ুশক্তির সক্ষমতা সম্প্রসারণের উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুশক্তির সক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫৫ গিগাওয়াটে বৃদ্ধি করা। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নীতিগত সহায়তা এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রক (MNRE) দ্বারা চালু করা এবং ইন্ডিয়ান উইন্ড টারবাইন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (IWTMA)-এর মতো শিল্পখাতের অংশীদারদের দ্বারা সমর্থিত WT-MARUT পোর্টালটি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা উন্নত করতে, দেশীয় সরবরাহকারী খুঁজে পেতে সহায়তা করতে এবং অনুমোদিত মডেল ও প্রস্তুতকারকদের তালিকা (ALMM) কাঠামোসহ গুণগত মানের নিয়মাবলী মেনে চলা সহজতর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ সালে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য সংযোজন এর ত্বরান্বিত প্রসারকে তুলে ধরে, যা উন্নত উৎপাদন ক্ষমতা, বর্ধিত বিনিয়োগ এবং স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের উপর ছাড়যুক্ত শুল্কের মতো নীতিগত প্রণোদনা দ্বারা সমর্থিত।
বায়ুশক্তি প্রকল্প উন্নয়নে জমি অধিগ্রহণ, গ্রিড সংযোগ এবং সঞ্চালন পরিকাঠামোর মতো বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হয়, যা দেশজুড়ে স্থাপনা সম্প্রসারণের জন্য অপরিহার্য।
পরীক্ষার জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে প্রায়শই নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা, সরকারি উদ্যোগ এবং শক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। ভারতের বায়ুশক্তির লক্ষ্যমাত্রা (২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট, ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫৫ গিগাওয়াট), বিভিন্ন মাইলফলক (জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৫৬.১ গিগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা), WT-MARUT পোর্টালের সূচনা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর ভূমিকা সম্পর্কিত বিবরণগুলি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত বিষয়। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা বোঝা, দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া এবং বায়ুশক্তিকে নবায়নযোগ্য সম্পদ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার মতো বিষয়গুলিও পরিবেশ, অর্থনীতি এবং শক্তি-সম্পর্কিত সিলেবাসের প্রশ্নগুলির জন্য প্রাসঙ্গিক।
মনে রাখার মতো বিষয়
- ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে স্থাপিত বায়ু শক্তি ক্ষমতা ৫৬.১ গিগাওয়াট অতিক্রম করবে।
- লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫৫ গিগাওয়াট।
- সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করতে এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০২৬ সালের ১৫ই জুন WT-MARUT পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৬.১ গিগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪৬% বেশি।
- কেন্দ্রীয় নব ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রী: প্রহ্লাদ যোশী।
- দেশীয় উৎপাদনের জন্য প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লেড, টাওয়ার, ন্যাসেল, গিয়ারবক্স, জেনারেটর এবং কন্ট্রোল সিস্টেম।
- স্থাপিত বায়ুশক্তি ক্ষমতার দিক থেকে ভারত বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
- বায়ু শক্তিকে একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।
তথ্যসূত্র
- India targets 155 GW wind energy capacity by 2035 - GKToday
- India aims to reach 155 GW of installed wind energy capacity by 2035: Union minister | Goa News - The Times of India
- WT-MARUT Portal Launch Marks Major Push for India’s Wind Energy Sector
- Manufacturing | MINISTRY OF NEW AND RENEWABLE ENERGY | India