CEPA চুক্তির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও কানাডা।
ভারত ও কানাডা ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি অর্জনের জন্য, উভয় দেশ একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ)-র জন্য আলোচনা শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা তারও আগে এটি সম্পন্ন করা। সম্প্রসারণের জন্য প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি (গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইউরেনিয়াম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি), কৃষি-খাদ্য, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা। ২.৬ বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের মতো উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলো এই শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে তুলে ধরে। উচ্চ-পর্যায়ের সফর এবং বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলগুলো ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নবায়িত গতিকে প্রতিফলিত করে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সাল নাগাদ ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা।
- একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা তারও আগে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
- ভারতের পারমাণবিক শক্তির চাহিদা মেটাতে ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং উন্নত উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত ও কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অংশীদারিত্ব বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
- শক্তি সহযোগিতার আওতায় হাইড্রোকার্বন, নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ হাইড্রোজেন এবং শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
- কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২০২৬ সালের মে মাসে ১১০ জনেরও বেশি সদস্যের ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে কানাডায় যাবেন।
- কানাডার পেনশন তহবিলগুলো ভারতেও প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির প্রতি তাদের দৃঢ় আস্থার প্রতিফলন।
- ১৮ লক্ষেরও বেশি ইন্দো-কানাডিয়ান এবং একটি উল্লেখযোগ্য ছাত্র সম্প্রদায়ের সাথে জনগণের সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ভারত-কানাডা সম্পর্ক—যা ২০২০-এর দশকের শুরুতে কিছুটা টানাপোড়েনের শিকার হয়েছিল—উচ্চপর্যায়ের সফর এবং নবায়িত কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনের এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের মার্চে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারি ভারত সফর এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সফর এই নতুন সূচনাকেই তুলে ধরে। ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ)-কে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে পণ্য, পরিষেবা, নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সুবিধাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য এমন সব খাত, যেখানে উভয় দেশেরই শক্তি ও পরিপূরকতা রয়েছে; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পারমাণবিক শক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি-খাদ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং শিক্ষা। কানাডিয়ান পেনশন তহবিলগুলোর ভারতে বৃহৎ আকারের বিনিয়োগ এবং নতুন সুযোগ অন্বেষণকারী সক্রিয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলগুলোর মাধ্যমেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।
পরীক্ষার জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
সমসাময়িক অর্থনৈতিক বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পরীক্ষাগুলোর জন্য ভারতের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য অংশীদারিত্ব এবং বর্ধিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে ভারতের প্রচেষ্টায় ভারত-কানাডা সিইপিএ আলোচনা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির মতো সমঝোতা স্মারক এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও নবায়নযোগ্য শক্তির উপর গুরুত্বারোপ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যে বিষয়গুলো প্রায়শই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।
মনে রাখার মতো বিষয়
- CEPA-এর পূর্ণরূপ হলো Comprehensive Economic Partnership Agreement (সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি), যা প্রচলিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেয়ে অধিকতর ব্যাপক এবং এতে পণ্য, পরিষেবা, বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা হলো অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার জন্য ভারত ও কানাডার একটি যৌথ স্বপ্ন।
- ২.৬ বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (২০২৭-২০৩৫) কানাডার সঙ্গে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে।
- প্রধান সহযোগী খাতসমূহ: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নবায়নযোগ্য শক্তি, হাইড্রোকার্বন, সবুজ হাইড্রোজেন, কৃষি-খাদ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা।
- গুরুত্বপূর্ণ সফর: ২০২৬ সালের মার্চে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফর; ২০২৬ সালের মে মাসে পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের কানাডা সফর।
- কানাডায় একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী (প্রায় ১৮ লক্ষ ইন্দো-কানাডিয়ান) এবং বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সদিচ্ছা ও জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
তথ্যসূত্র
- India-Canada target $50 billion trade by 2030 – GKToday
- India–Canada Joint Statement on the Conclusion of the Second Round of Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA) Negotiations – PIB
- India–Canada trade talks restart, aim to boost business and hit $50 billion trade goal by 2030 - CNBC TV18
- India and Canada sign $2.6 billion uranium supply agreement
- Inside the Canada-India Critical Minerals Partnership