নারী কৃষকদের আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিতে মহারাষ্ট্র নারী কৃষক ক্ষমতায়ন বিল, ২০২৬
২০২৬ সালের ২২শে জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনে মহারাষ্ট্র সরকার ‘মহারাষ্ট্র নারী কৃষক ক্ষমতায়ন বিল, ২০২৬’ পেশ করতে চলেছে। এই বিলের লক্ষ্য হলো নারী কৃষকদের স্বাধীন আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা এবং রাজ্য সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্প, ঋণ, ভর্তুকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার প্রসারিত করা। এতে 'কৃষক'-এর একটি ব্যাপকতর সংজ্ঞা প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কেবল জমির মালিকরাই নন, বরং পশুপালন, মৎস্যচাষ, উদ্যানপালনের মতো কৃষি-সহায়ক কাজে নিযুক্ত নারীদের, সেইসাথে ভূমিহীন চাষী, বর্গাচাষী, কৃষি শ্রমিক এবং পরিযায়ী শ্রমিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি এই সত্যকে স্বীকৃতি দেয় যে মহারাষ্ট্রের কৃষি কর্মশক্তির ৮১ শতাংশেরও বেশি নারী হওয়া সত্ত্বেও, জমির মালিকানা-সম্পর্কিত সুবিধার কারণে তারা বঞ্চনার শিকার হন। বিলটিতে সুবিধা প্রাপ্তি সহজ করার জন্য একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং একটি ‘মহারাষ্ট্র রাজ্য নারী কৃষক তহবিল’ ও মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্য-স্তরের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মূল তথ্য
- বিলের নাম: মহারাষ্ট্র মহিলা কৃষক ক্ষমতায়ন বিল, ২০২৬
- বিধানসভা অধিবেশন: মহারাষ্ট্র বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন ২২ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে।
- প্রাথমিক উদ্দেশ্য: নারীদের কৃষক হিসেবে স্বাধীন আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সুযোগ উন্নত করা।
- কৃষিক্ষেত্রে নারী: মহারাষ্ট্রের কৃষি কর্মশক্তির ৮১ শতাংশেরও বেশি নারী।
- কৃষকের বর্ধিত সংজ্ঞা: এতে শুধু জমির মালিকরাই নয়, বর্গাচাষী, ভূমিহীন কৃষক, কৃষি শ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিক এবং পশুপালন, মৎস্যচাষ, উদ্যানপালন, হাঁস-মুরগি পালন, মৌমাছি পালন, রেশম চাষ, কৃষি-বনায়ন এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহের মতো সংশ্লিষ্ট খাতের নারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
- বিধানসমূহ: রয়েছেঃ রাজ্য সরকারের ঋণ প্রকল্প, কৃষি ভর্তুকি, বীজ, সার, শস্য বীমা, সম্প্রসারণ পরিষেবা, বাজার সুবিধা, পরিবহন, সংরক্ষণ পরিকাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে প্রবেশাধিকারের সুযোগ।
- প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা: মহিলা কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রস্তাব এবং মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কৃষক তহবিল ও মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে রাজ্য-স্তরের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
ভারতীয় সংবিধানের সপ্তম তফসিলের রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয় কৃষি, এবং অনেক কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য জমির মালিকানা যোগ্যতার শর্ত। মহারাষ্ট্রের কৃষি কর্মশক্তির ৮১ শতাংশেরও বেশি নারী হওয়া সত্ত্বেও, যেহেতু অধিকাংশ নারীর জমির অধিকার নেই, তারা সরকারি সহায়তা ও প্রতিষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হন। পরিবার বা সমাজ-স্বত্বাধীন জমিতে কিংবা সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করা নারীরা স্বাধীন কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পান না। এই বিলটি আইনি কাঠামো পরিবর্তন করে নারীদের পূর্ণ স্বীকৃতি দানের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে, যা কৃষিক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করবে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব / প্রাসঙ্গিকতা
এই বিলটি নারীর কৃষিক্ষেত্রে অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তি, কৃষি সংস্কার ও রাজ্য বিধানসভায় প্রণীত নতুন নীতিমালা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাম্প্রতিক কৃষি ও নারী ক্ষমতায়নের সরকারি উদ্যোগ ও রাজ্যের ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা দেয়।
মনে রাখার বিষয়
- ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিল উত্থাপিত হবে।
- মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বিলটি ঘোষণা ও পর্যালোচনা করেছেন।
- মহারাষ্ট্রের কৃষি কর্মশক্তির ৮১ শতাংশেরও বেশি নারী হলেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত কারণে mereka কৃষক হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পান না।
- বিলটি কৃষকের সংজ্ঞা প্রসারিত করে, যাতে ভূমিহীন কৃষক, বর্গাচাষী, কৃষি শ্রমিক ও পরিযায়ী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট খাতের নারীরাও অন্তর্ভুক্ত।
- নারী কৃষকদের জন্য সরকারি প্রকল্প, ঋণ, ভর্তুকি, বীমা এবং সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তাব করা হয়েছে।
- মহারাষ্ট্র রাজ্য নারী কৃষক তহবিল গঠনের প্রস্তাব আছে।
- মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে রাজ্য-স্তরের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে।
- কৃষি সংবিধানের রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয় হওয়ায় এ ধরনের রাজ্য আইন বৈধ।
তথ্যসূত্র
- Maharashtra to table ‘Women Farmers Empowerment Bill’ during upcoming Monsoon Session - The Hindu
- Maharashtra To Introduce Women Farmers Empowerment Bill 2026 In Monsoon Session: CM Devendra Fadnavis - Free Press Journal
- Why Maharashtra’s Women Farmers Bill could redefine political economy of Indian agriculture - Agro Spectrum India