কামি রিতা শেরপা ৩২তম বারের মতো মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন।
২০২৬ সালের ১৭ মে, নেপালি শেরপা গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২তম বারের মতো মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেন। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে নেপালের পর্যটন বিভাগ এই আরোহণ নিশ্চিত করে, যার ফলে কামি রিতা সর্বোচ্চ সংখ্যক এভারেস্ট আরোহণকারী হিসেবে স্বীকৃত হন। ১৯৭০ সালের ১৭ জানুয়ারি সোলুখুম্বু, নেপালে জন্ম নেওয়া কামি রিতা ১৯৯৪ সালে প্রথম এভারেস্ট আরোহণ করেন এবং তারপর থেকে চো ওইউ ও মানাসলুসহ অন্যান্য প্রধান ৮,০০০-মিটার শৃঙ্গ অনেকবার আরোহণ করেছেন। তাঁর রেকর্ড সৃষ্টি করা কৃতিত্ব তাঁর অসাধারণ সহনশীলতা ও নেপালের পর্বতারোহণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মূল তথ্য
- ৩২তম আরোহণের তারিখ: ১৭ মে ২০২৬, নেপাল সময় সকাল ১০:১২
- মাউন্ট এভারেস্টের অবস্থান: নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্তে
- মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা: ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৬৯ ফুট)
- নেয়া পথ: দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা, নেপাল থেকে প্রচলিত পথ
- আরেহণের সময় কামি রিতা শেরপার বয়স: ৫৬ বছর
- জন্মস্থান: থামে গ্রাম, সোলুখুম্বু জেলা, কোশী প্রদেশ, নেপাল
- কামি রিতা শেরপা কর্তৃক প্রথম এভারেস্ট আরোহণ: ১৯৯৪, বয়স ২৪ বছর
- কামি রিতার পূর্ববর্তী শিখর আরোহণের রেকর্ড: ২৭ মে ২০২৫ পর্যন্ত ৩১ বার
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ৮,০০০-মিটার শৃঙ্গ: চো ওইউ (৮ বার), মানাসলু (একাধিকবার), এছাড়া কে২ এবং লোৎসে আরোহণ
- কামি রিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক এভারেস্ট আরোহণ এবং সর্বাধিক ৮,০০০-মিটার শৃঙ্গ আরোহণের (মোট ৪৪টি) রেকর্ডধারী
- ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১:৩০ এ এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথম নিশ্চিত এভারেস্ট আরোহণ সম্পন্ন করেন
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মহালাঙ্গুর হিমাল উপ-পর্বতমালার অংশ
- ‘পর্বত রানী’খ্যাত লাকপা শেরপা ১৭ মে ২০২৬ তারিখে তাঁর ১১তম এভারেস্ট আরোহণ সম্পন্ন করেন
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
কামি রিতা শেরপা নেপালের একজন কিংবদন্তি শেরপা পর্বতারোহী, যিনি উচ্চ-পর্বতারোহণে তাঁর সহনশীলতা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের জন্য ব্যাপকভাবে খ্যাত। তিনি ১৯৯২ সালে পেশাগত ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলিতে অসংখ্য অভিযানের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বহুবার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ তাঁর নেপালের সমৃদ্ধ পর্বতারোহণ ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ আরোহণে ব্যবহৃত দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা পথটি নেপাল থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, যা সাউথ কোল অতিক্রম করে চূড়ায় পৌঁছে।
পরীক্ষার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ / পরীক্ষার প্রাসঙ্গিকতা
এই রেকর্ডটি ভূগোল, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে বিশ্ব রেকর্ড, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ভৌগোলিক স্থানসমূহের জ্ঞান প্রয়োজন হয়। কামি রিতা শেরপার কর্মকাণ্ড নেপালের পর্বতারোহণ ও অভিযান পর্যটনে প্রাধান্য তুলে ধরে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন হয়। এভারেস্টের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট এবং ঐতিহাসিক প্রথম আরোহণ বোঝা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য।
মনে রাখার বিষয়
- ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত কামি রিতা শেরপা ৩২ বার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ
- ২০২০ সালের নেপাল-চীন সমীক্ষা অনুযায়ী মাউন্ট এভারেস্টের আনুষ্ঠানিক উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৬৯ ফুট)
- প্রথম সফল এভারেস্ট আরোহণ: এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে, ২৯ মে ১৯৫৩, সকাল ১১:৩০
- এভারেস্ট নেপাল ও তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত
- কামি রিতার ৩১তম আরোহণ ছিল ২৭ মে ২০২৫ তারিখে
- চো ওইউ (৮ বার) এবং মানাসলু (একাধিকবার) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ আরোহণ করেছেন কামি রিতা
- রেকর্ডধারী মহিলা পর্বতারোহী লাকপা শেরপা একই দিনে ১১ তম আরোহণ সম্পন্ন করেন
তথ্যসূত্র
- Nepal's mountaineer Kami Rita Sherpa climbs Mt. Everest for 32nd time, beats own record - The Economic Times
- Kami Rita Sherpa climbs Everest for 32nd time - GKToday
- Mount Everest | Height, Map, Deaths, Facts, & Climbers | Britannica
- Edmund Hillary and Tenzing Norgay reach Everest summit | May 29, 1953 | HISTORY